যাবজ্জীবন সাজা পেয়েও মুক্ত জীবনে সাত জঙ্গি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৫, ০০:১৬

সারাদেশে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীতে বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত এক ডজন মামলায় দোষী সাব্যস্ত সাত জঙ্গি পর্যায়ক্রমে জামিন নিয়ে এখন মুক্ত জীবনযাপন করছেন। এই সাতজনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে স্থানীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্ু্ত সেই দণ্ড তাদের ভোগ করতে হয়নি। আগেভাগেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তারা।

 
দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মধ্যে জিয়াউর রহমান জিয়া ও জাহিদ বাবুকে তিনটি মামলায়, সরোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিমকে দুটি মামলায় এবং জালাল আরেফিন, আবু ইউসুফ মজুমদার, গিয়াস হাওলাদারকে একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছিল। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিরিজ বোমা হামলায় দণ্ডিত কোন আসামি কারাগারে নেই। সবাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছেন।
 
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কামাল হোসেন ইত্তেফাককে জানান- চার জেএমবি’র সদস্য কারাগারে বন্দী রয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহের আদালতে হাজিরার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকী তিনজন বরিশাল কারাগারে বন্দী। কারাবন্দী চার জেএমবি সদস্য সিরিজ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নয়।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবি’র সদস্যরা সারাদেশের ৬২টি জেলার মতো বরিশাল নগরীর ১৮টি স্থানে একই সময়ে সিরিজ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ঐ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ১২টি পৃথক মামলা দায়ের করে পুলিশ। থানার তত্কালীন এস.আই জহুরুল ইসলাম সরদার, ইমরান হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আল-মামুন উল ইসলাম, শিশির কুমার পাল ও মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে দায়ের করা ১২টি মামলায়ই জিয়াউর রহমান জিয়া, জাহিদ বাবু, সরোয়ার হোসেন, আব্দুর রহিম, গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী রেজা, আবু সোলায়মান সুজন, জালাল আরেফিন, মো. মারুফ, গিয়াস হাওলাদার, সাইফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আবু ইউসুফ মজুমদার ও আব্দুস সোবাহানকে আসামি করা হয়েছিল। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।
 

বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের তত্কালীন পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, দণ্ডিত জঙ্গিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। আরেক আইনজীবী বলেন- উচ্চ আদালতে এসব জঙ্গিদের জামিনের শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে জামিনের বিরোধিতা করলে এত সহজে জামিন হতো না। তাই রাষ্ট্রপক্ষের উচিত এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া।