‘ব্যাংককে হামলাকারী কোনো চক্রের হয়ে কাজ করেছে’

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৫, ১৯:৪১
 
ব্যাংককের এরাওয়ান মন্দিরে সোমবার চালানো বোমা হামলায় কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়, বরং  হামলাকারী কোনো ‘চক্র’ বা ‘নেটওয়ার্কের’ হয়েই এ কাজ করেছে। থাইল্যান্ডের পুলিশ প্রধান এ কথা জানিয়েছেন। তবে নতুন এ বিবৃতিতে এত দিন যে রহস্যের জট লেগেছিল, তাতে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
 
 
গত সোমবার দেশটির এরাওয়ান মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটনায় ২০ জন নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। ঐ ঘটনার সাথে কমপক্ষে ১০ জন জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
 
ও দিকে বোমা হামলার ঘটনার পর বুধবার মন্দিরটি আবারো খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, এর মধ্য দিয়ে আল-কায়েদার তো আলোচিত জঙ্গি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বাতিল করে দেয়া হলো।
 
ঐ হামলার প্রধান সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করেছে পুলিশ। তার পরনে আছে হলুদ একটি টি-শার্ট। এরাওয়ান মন্দির থেকে চলে যাওয়ার সময় সিসিটিভি ফুটেজে তার ছবি দেখা গেছে। ফুটেজে পাওয়া সেই সন্দেহভাজনকেই খুঁজছে থাই কর্তৃপক্ষ।  সোমবার সন্ধ্যায় চালানো ঐ হামলায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নয়জন বিদেশি নাগরিক নিহত হন।
 
থাই পুলিশ প্রধান সমিয়ত পুম্পানমুয়াং বলেছেন, মন্দিরে হামলায় একাধিকজন জড়িত। প্রধান সন্দেহভাজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে একা এ হামলা চালায়নি তা নিশ্চিত। এটি একটি নেটওয়ার্ক।’ তবে এ ব্যাপারে তিনি আর বিস্তারিত কিছু জানান নি। হামলায় থাই নাগরিকরা জড়িত বলেও নিশ্চিত করেছেন পুম্পানমুয়াং। তবে হামলাকারী বিদেশি নাকি ছদ্মবেশী থাই নাগরিক তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। পুলিশ প্রধান আরো বলেন, তিনি মনে করেন, এ হামলার পরিকল্পনা অন্ততপক্ষে একমাস আগে থেকেই করা হয়েছিল। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সাথে আলোচনা করেছেন। এ আলোচনার পর তারা বিশ্বাস করেন, এটা কোন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের কাজ নয়।
 
থাই পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, বোমা হামলাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজে আরো দুইজনকে দেখতে পাওয়া গেছে। তাদেরকেও হামলার ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যাংককের বাণিজ্যিক এলাকায় সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে চালানো এই হামলা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে থাই সরকার। হামলার পর প্রায় দুইদিন পেরিয়ে গেলেও দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। ঐ হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই থাই নাগরিক। তবে নিহত বিদেশিদের মধ্যে চীন, হংকং, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকরাও আছে। সিসিটিভির অস্পষ্ট ফুটেজে এরাওয়ান মন্দিরে হামলার সন্দেহভাজনকে পিঠে একটি ব্যাগ বাঁধা অবস্থায় মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সেখানে একটি রেলিংয়ের পাশে তিনি বসেছেন এবং তাকে ব্যাগের ফিতা খুলতে দেখা গেছে। হলুদ টি-শার্ট পরা কালো, ঢেউ খেলানো লম্বা চুলের তরুণটি এরপর উঠে দাঁড়ান। এ সময় তার হাতে একটি নীল রংয়ের প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং সম্ভবত একটি মোবাইল ফোন ছিল। বেড়ার পাশে পর্যটকদের ভিড়ে ব্যাগটি পড়ে থাকে।