গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়াসহ সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার চারটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রবিবার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমা কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সদ্য রোপন করা আমন, আমন বীজতলা, বর্ষালী ও আউশ ধান, পটল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এদিকে বন্যার পাশাপশি দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। গত তিনদিনে যমুনার ভাঙ্গনে সাঘাটা ও তিস্তার ভাঙ্গনে সুন্দরগঞ্জে প্রায় দুই শ পরিবার গৃহহারা হয়েছে।
অপরদিকে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ এলাকায় ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি যে কোন মুর্হূতে ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরগঞ্জের ছয়ঘড়িয়া এলাকার তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং ফুলছড়ির সিংড়িয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। বন্যার্তদের জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।IMG0
সুন্দরগঞ্জের রামডাকুয়া, হাজারীর হাট, লালচামার বাজার, পাড়াসাদুয়া, কানিচরিতাবাড়ি, চরচরিতাবাড়ি, ছয়ঘড়িয়া, বোচাগাড়ি এলাকার শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূরুন্নবী সরকার।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়ার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আরো জানান, হুমকির মুখে পড়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের এলাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই মিল্টন জানান, জরুরি ভিত্তিতে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যা কবলিত মানুষ এবং তাদের গবাদি পশুকেও আশ্রয় দেয়া হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য আপাতত পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল জানান, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়া গেলে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ জানান, এরই মধ্যে বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
