আনিসুজ্জামান
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-দিনব্যাপী ‘আনর্ত নাট্যমেলা’ শেষ হয়েছে। গত সোমবার দুপুর ১২টায় সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনের সামনে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রহমান রাজুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া, বিশিষ্ট নাট্যজন মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, বিপ্লব বালা ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি। অনুষ্ঠানে নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী জাতীয় পতাকা, উপাচার্য আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও মামুনুর রশিদ আনর্ত পতাকা উত্তোলন করেন।
নাটকের পত্রিকা আনর্ত আয়োজিত এ নাট্যমেলার কর্মসূচিতে ছিল সৌহার্দ্য বিনিময়, বৈঠক, স্বীকৃতি প্রদান, নাটক মঞ্চায়ন, গানের আসর, নাট্য আড্ডা, উপকরণ প্রদর্শনী ও বইয়ের দোকান। এ আয়োজনের কর্মসূচিতে ‘বুদেরামের কূপে পড়া, বেহুলা, আমি এবং সতীত্ব, বেলাবতী কইন্যা’ শীর্ষক নাটক মঞ্চায়িত হয়। এ আয়োজনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের কয়েকটি নাট্যদল অংশ নেয়। আনর্ত সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রহমান রাজু এ আয়োজন সমন্বয় করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আব্দুস সোবহান বলেন, ‘নাটক শুধু বিনোদন বা শিল্প নয়, নাটক চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজের অন্যায়, অবিচার, স্বৈরাচারী শাসন জাতির সম্মুখে আনা যায়। সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম বিষয় হচ্ছে মানবিক মানুষ সৃষ্টি। আমরা যে ভাষায় কথা বলছি, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন না হলে আমরা এ ভাষায় কথা বলতে পারতাম না। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা না এলে আজকে এখানে নাট্যমেলা সম্ভব ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই আলোকিত ও মানবিক মানুষ। পশ্চাদপদ মানুষ চাই না। আমরা চাই নিঃস্বার্থ ও বিশ্বমানবিকতার মানুষ। যে মানুষকে ভালোবাসবে। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র এটা কোনো পরিচয়ের বিষয় নয়।’
উপাচার্য বলেন, ‘যারা নাটক করেন, নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হন তাদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতিক্রিয়াশীলতা রয়েই যাচ্ছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা যারা লালন করেন, নাটক চর্চার মাধ্যমে তাদের মধ্যে থেকে এ ধারণা দূর করতে হবে। মানুষকে ভালোবাসুন। নাটক মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাট্যব্যক্তিত্বরা নাটকের মাধ্যমে অবদান রাখবেন। বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেসময় অনেকেই নেতা ছিলেন। কিন্তু তারা তো বাংলাদেশকে স্বাধীন করার চিন্তাও করেননি।’
উদ্বোধক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে ২০ একর জমিতে অপেরা হাউস প্রতিষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বকে মানবিক করতে, মানবতা ধরে রাখতে আন্দোলন করছি, করে যাবো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যাঙ্গনের অন্যতম আলোকিত মঞ্চ হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘আমরা নাটকের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখতে চাই।’
