প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স’র (ওআইসি) মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানী গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাসীদের কতিপয় কার্যক্রমের সুযোগ নিয়ে অন্যরা এ থেকে সুবিধা নিচ্ছে। ‘ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, যা আমাদের সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়’ একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মুসলিম দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কেবলই সন্ত্রাসী এবং এ ক্ষেত্রে ধর্মের কোন বিষয় নেই।’
সৌদি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা সম্পর্কে আলোচনায় শেখ হাসিনা ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসলাম এ ধরনের ঘৃণ্য কার্যক্রম কখনোই সমর্থন দেয় না। তিনি আলোচনার মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত নিরসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শিক্ষাখাতে ওআইসি’র ভূমিকা ও উদ্যোগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষার প্রতি জোর গুরুত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, পাশাপাশি পৃথকভাবে তহবিল বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে তাঁর সরকার গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। অতীতে মুসলিম গবেষকদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরাই ছিলেন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথিকৃত্। তাই মুসলিম সম্প্রদায়কে এখন এ বিষয়ে মনোনিবেশ করতে হবে।
ওআইসি মহাসচিব বলেন, সংস্থার মূল দর্শন হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতি গড়ে তোলা। বাংলাদেশ সবসময়ই ওআইসি কার্যক্রমের পুরোভাগে রয়েছে এবং যথাযথ ভূমিকা পালন করছে। ওআইসি মহাসচিব ২০১৬ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য আগামী ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাপান বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগে
আগ্রহী : প্রধানমন্ত্রীকে জাপানের রাষ্ট্রদূত
এদিকে জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও উপযোগী পরিবেশের কথা বিবেচনা করে তার দেশের অনেক বিনিয়োগকারী এদেশে বিনিয়োগে খুবই আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে জাপান থেকে আরো সরাসরি বিনিয়োগ আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ সহজতর করতে তাঁর সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মিত হচ্ছে এবং এতে জাপানের বিনিয়োগকারীরা তাদের কারখানার স্থান বেছে নিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়ে আশা পোষণ করেন যে, আগামীতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সম্পর্ক জোরদার হবে। স্বাধীনতা লাভের সময় থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের প্রথম ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের উন্নয়ন।
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আসার পর তিনি এ দেশের কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন এবং এ খাতে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি মাতারবাড়ী বিদ্যুত্ প্রকল্পে জাপানের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে মাসাতো ওয়াতানাবে দু’দেশের শোকের অভিন্ন মাস আগস্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগস্ট হচ্ছে উভয় দেশের জনগণের শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের এই মাসে বাংলাদেশের জাতির পিতা নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন। ১৯৪৫ সালের এই একই মাসে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী জাপানের একজন সাহিত্যিকের ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ জাপানী ভাষায় অনুবাদের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কোরিয়ার বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত্
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের এক আকর্ষণীয় স্থান। এখানে বিদ্যমান আইন ও বিনিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে যে কোন বিনিয়োগ করা যায়। বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লী ইন ইয়ং গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং তাঁর সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালে মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীতের ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি। তিনি দু’দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আইটি খাতে সম্পর্ক স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।