অধ্যক্ষ মিসেস হামদাি আলীর নাম জানেন না এমন অভিভাবক-শিক্ষার্থী পাওয়া দুষ্কর। যিনি শিক্ষার্থী তো বটেই, অনেক শিক্ষক তথা অধ্যক্ষের কাছেও ‘বড় আপা’ বলেই পরিচিত। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। এই বিজ্ঞ অধ্যক্ষের হাত ধরেই ভিকারুননিসা নূনের দেশ সেরা হওয়ার গল্প সকলেরই জানা। শুধু ভিকারুননিসাই নয়, সম্প্রতি গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে নতুন সাফল্যগাথার সূচনা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করে মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে উজ্জ্বল এখন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রথমে শুধু স্কুল সেকশন দিয়ে শুরু করলেও ২ বছরের ব্যবধানে খোলা হয় এর কলেজ সেকশন। বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এই প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি শাখা (মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মীরপুর ও উত্তরা) রয়েছে। ইতোমধ্যে বারিধারায় নিজস্ব অত্যাধুনিক ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং পর্যাপ্ত লিফটের পাশাপাশি চলন্ত সিঁড়িও রয়েছে। পাশাপাশি মালিবাগেও নিজস্ব আধুনিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। উত্তরায় স্কুল শুরু করার আগেই উত্তরার বর্ধিত সেক্টরে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে।
উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাড়িতে গড়ে ওঠা কলেজটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কোনো রেকর্ড যেমন নেই, তেমনি প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে জিপিএ ফাইভ ও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাসের সংখ্যা। জিপিএ ফাইভের হার প্রতিবছরই ৮০ থেকে ৯০%। বৃত্তিতেও এই এলাকায় সাউথপয়েন্টের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে এগিয়ে। গত বছরও গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথপয়েন্টের। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ১৮ জন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান লাভ করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়াসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এদের শিক্ষার্থীদের অর্জন প্রশংসনীয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এদের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধান। এখানে সর্বমোট ৯০০ মেধাবী ও খ্যাতিমান শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ১২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিশিষ্ট সমাজ হিতৈষী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এমএ রশিদ এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এখানে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যক্ষ মিসেস হামিদা আলী ছাড়াও বিভিন্ন শাখায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন উইং কমান্ডার এম. আমজাদ হোসেন (অব.), কর্নেল মো. শামসুল আলম, পিএসসি (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ আমজাদ হোসেন, মো. মতিউর রহমানসহ সদ্য প্রতিষ্ঠিত উত্তরা শাখার অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন নৌ বাহিনী সদর দপ্তরের নৌ শিক্ষা সেকশনের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. মোসলেহ্ উদ্দিন, পিএসসি, বিএন (অব.)। উল্লেখ্য, তিনি কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বিএন কলেজ চট্র্গ্রামের অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি সেশনে ভর্তি চলছে (বিস্তারিত জানতে ০১৭৬৫০৪৯৮২২)। ‘ভালো স্কুল আমরা কিভাবে সংজ্ঞায়িত করব? ভালো স্কুল-কলেজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে পাঠদান মানসম্মত কি না। এক্ষেত্রে উক্ত স্কুল-কলেজের অতীতের ব্যাচগুলোর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় হাতে-কলমে পাঠদান। শিক্ষার্থীকে শিক্ষা যেন শুধু গলাধকরণ করতে বাধ্য করা না হয়, বরং শিক্ষার্থী যেন প্রতিটি পাঠকে হূদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হয়—এই প্রয়াস যে প্রতিষ্ঠানে আছে, সেটাকে ভালো স্কুল বা কলেজ বলা যেতে পারে।’ সাউথ পয়েন্টের অব্যাহত উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মিসেস হামিদা আলী এসব কথা বলেন।
