বাংলার গ্রামগঞ্জে হাটবাজারে বড় ছোট শহরে নগরে একটা দৃশ্য প্রায়ই নজরে পড়ে। বন্যপ্রাণী নাচিয়ে মানুষকে আকর্ষণ করার চেষ্টা। কিছু মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য একটা চিরন্তন অন্যায় করে যাচ্ছে না জেনে না বুঝেই। জনসাধারণের উপস্থিতি অনুভব করে তারা নেমে পড়ে তাদের এই পেশায়। পড়াশোনার অভাব, প্রাণীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতার অভাবে এই অন্যায়টি সংগঠিত হচ্ছে। স্বাধীন বন্যপ্রাণীদের ধরে এনে জনসম্মুখে প্রদর্শন ও বিভিন্ন কলা-কৌশল দেখাতে বাধ্য করা অন্যায়। যদিও এইসব পেশার সঙ্গে জড়িতরা অভাবী। দারিদ্র্য এদের চিরসঙ্গী। বেঁচে থাকার তাগিদে এসব করছে। তাদেরকে ভিন্ন পেশায় পুনর্বাসন করে এই নিষ্ঠুর পেশা পরিহারে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা জরুরি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষক কমিটি ও সংগঠন, পরিবেশ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য প্রেমীরাও এগিয়ে আসতে পারেন এই কাজে। সাহায্য করতে পারে বন পরিবেশ ও প্রাণিসমপদ মন্ত্রণালয়ও। সাপ বানর হাতিই নয়—টিয়েসহ বিভিন্ন পাখি এই তালিকায় আছে। সার্কাসের প্রদর্শনীতেও বন্যপ্রাণীর প্রদর্শন বন্ধ দরকার। কোনো প্রাণীর স্বাধীনতা হরণ করে আনন্দ উপভোগ করা অবশ্যই অন্যায় ও নিষ্ঠুরতা। এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের এই পেশায় অনুত্সাহিত করতে পারলে বন্যপ্রাণীর অধিকার সংরক্ষিত হবে।
মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু
উত্তরা, ঢাকা
০
