চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত ছিলেন বিজয়

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৬

ভারতের ৫০০তম জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অখ্যাত যোগীন্দর শর্মার হাতে বল দিয়ে বাজি রেখেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবার অখ্যাত বিজয় শঙ্করের ওপর সেই একই বাজি ধরলেন বিরাট কোহলি। আর বিষ্ময়কর ভাবে কোহলি, তথা ভারতকে জয় এনে দিলেন এই ম্যাচে ভিলেন থেকে নায়ক হয়ে যাওয়া বিজয় শঙ্কর।

 শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। শুরুর দিকে এক ওভারে ১৩ রান দিয়ে ফেলা বিজয় শঙ্কর সেই ১১ রানের জায়গায় মাত্র ২ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়ে ভারতকে এনে দিলেন ৮ রানের জয়। এটা ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের ৫০০তম জয়। এই জয়ের পর বিজয় শঙ্কর বলছিলেন, তিনি মানসিকভাবে এরকম একটা ওভার বল করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

 শেষ ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৮ রান। খুবই সহজ সমীকরণ। কিন্তু এই সমীকরণটাকে কঠিনতম বানিয়ে দিয়েছিলেন আসলে জসপ্রিত বুমরাহ। ৪৬তম ওভারে তিনি ১ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২ উইকেট। ৪৮তম ওভারে আবার এসে খরচ করলেন মাত্র ১ রান। অবশ্য ৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ শামি ৯ রান খরচ করে ফেললে আবার স্বপ্ন দেখতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

তখন কোহলির সামনে চ্যালেঞ্জ—শেষ ওভারটা কাকে দেবেন। বুমরাহ, শামি, জাদেজা ও কুলদীপের ১০ ওভার করে শেষ। তখন কোহলির সামনে দুটো সুযোগ ছিল—কেদার যাদব বা অনভিজ্ঞ ও খরুচে বিজয় শঙ্কর। কোহলি বিজয়ের ওপরই বাজি ধরলেন।

এই বাজিটা জিতে ফেলার পর বিজয় বলছিলেন, এই শেষ ওভার বল করাটা তার জন্য একটা অসাধারণ সুযোগ ছিল, ‘এর আগে খরুচে একটা ওভার বল করার পর এটা আমার নিজেকে শুধরে নেওয়ার দারুণ একটা সুযোগ ছিল। আমি সত্যিই এরকম একটা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এরকম চাপের মধ্যে বল করতে চাচ্ছিলাম। যাতে আমার ওপর আস্থাটা সবার ফিরে আসে। আমি চ্যালেঞ্জটা নিজে প্রস্তুত ছিলাম। ৪৩তম ওভারের দিকে আমি নিজেকে বলছিলাম, আমি শেষ ওভার বল করব এবং রান আটকাব। আমি নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলাম।’

বিজয় শঙ্করের ক্যারিয়ার দেখে অবশ্য মনে করার সুযোগ নেই যে, তিনি এরকম একটা কিছুর জন্য প্রস্তুত। এর আগে ৫টি ওয়ানডে খেলেছেন; কখনো উইকেট পাননি। গড়ে প্রায় ৬-এর কাছাকাছি রান ব্যয় করেছেন। কিন্তু দিনটাই ছিল বিজয় শঙ্করের। এর আগে ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাট হাতে উইকেটে নেমেছিলেন এদিন। ৪১ বলে ৪৫ রানের একটা ইনিংস খেলে কোহলিকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন। ভারতের ২৫০ রানটা অবশ্য দাঁড়িয়েছিল কোহলির আরেকটা সেঞ্চুরি, ১১৬ রানের ইনিংসের ওপর। তারপরও বিজয়ের ইনিংসটাকে ছোট করে দেখার উপায় নেই।

বিজয় বলছিলেন, কোহলির মতো একজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ব্যাট করতে পারাটাই অনন্য একটা অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা উপভোগ করেই ব্যাটিং করেছেন তিনি, ‘তার মতো এক জনের সঙ্গে ব্যাট করাটা সবসময় বিশেষ কিছু। আমি আমার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছিলাম। সে আমাকে বেশ কিছু ব্যাপারে সহায়তা করেছে। তারা (অস্ট্রেলিয়া) প্যাডে বল করার চেষ্টা করছিল। তাদের স্পিনাররা বল করলেও জোরে করছিল আমরা স্ট্রাইক বদল করে খেলার চেষ্টা করছিলাম।’