শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বঙ্গবন্ধুর ১৯ মিনিটের অলিখিত যে ভাষণে ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, যে ভাষণে পাল্টে গিয়েছিল দেশের প্রেক্ষাপট, বাঙালি অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই ভাষণের দৃশ্যপটের আদলে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৩ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যটি সমপূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপন করেন প্রয়াত জাতীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির। কলতাপাড়া বাজারের নিজ কার্যালয় সেবালয় ও নির্মিতব্য বৃদ্ধাশ্রমের সামনেই নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই দৃষ্টিনন্দন ও দেশের সর্বোচ্চ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন শিল্পী এমএ মাসুদ।
শিল্পী মাসুদ বলেন, প্রায় ৬ তলা ভবনের সমান ৫৩ ফুট উঁচু বঙ্গবন্ধুর এ ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে সাদা সিমেন্ট ও সাদা মোজাইক পাথর দিয়ে। গোড়ার ১৫ ফুট প্রস্থের ভাস্কর্যটিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক ভাষণের দৃশ্যে বঙ্গবন্ধুকে দেখানো হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে। ৭ মাসে তিনি ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক ফটো গ্যালারিও করা হয়েছে। এ ভাস্কর্যটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বঙ্গবন্ধু ভক্তরা আসছেন।
গৌরীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আবদুর রহিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর এটির সূচনা হয় ৭ মার্চের ভাষণ থেকে। নিজ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করে বঙ্গবন্ধু সমপর্কে জানার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রয়াত এমপি ডা. মুজিবুর রহমান ফকির। বঙ্গবন্ধুর এ ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। ভাস্কর্যটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের মুক্তিযুদ্ধ অথবা সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
গৌরীপুরে নির্মিত ৭ মার্চের ভাষণের আদলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলা মঞ্চ’ ইতোমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পেশ ও মানববন্ধন করেছে।
