নারীর ক্ষমতায়নে বড় বাধা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঘরে-বাইরে অবমাননাকর শব্দের ব্যবহার নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করছে। এতে নারীর মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এখনও প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞরা তাই বললেন, ভাষার ব্যবহারে সংবেদনশীলতা না আসলে নারীর ক্ষমতায়ন আসবে না।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শব্দে জব্দ নারী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন তারা। নারীর প্রতি সকল অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং সিনেমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অতিথিরা। তাতে স্থান করে নেয় পাঠ্যসূচিতে নারীর পোশাক, নারীর কাজ, নারীর আচরণ ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রভাব নির্দিষ্ট করে নারীর প্রতি বৈষম্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীর মর্যাদাহানি করা নানারকম শব্দ ও বাক্য সাজানো হয় দেয়াল জুড়ে।

এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, শব্দ, বাক্য এবং উক্তিতে কোনো লিঙ্গ থাকার কথা না। কিন্তু সেই ভাষাকেই লিঙ্গ অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বুঝে না বুঝে সবাই-ই ভাষার মাধ্যমে নারীকে হেয় করি। এর পরিবর্তন আনতে নারীকেই প্রথমে নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে।

নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সব সময় প্রমাণ করতে হয় যে তারাও পারে। তিনি বলেন, শব্দকে তৈরি করা হয় নারীর বিরুদ্ধে। শব্দকে লিঙ্গ ভিত্তিক করা হয়। কোন শব্দের আলাদাভাবে মূল্যায়ন বন্ধ করতে হবে।

দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, সংবাদ মাধ্যমেও নারীর প্রতি অসংবেদনশীল শব্দ ব্যবহার করা হয়। যদি এ বিষয়ক কোনো নীতিমালা থাকতো তাহলে বিষয়টি এতো হালকা হিসেবে দেখা হতো না। এ বিষয়ে একশনএইড বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. খলিলুর রহমান বলেন, কিছু কিছু শব্দ আছে যা শুধু জব্দ করে না ধ্বংসও করে। নারীদের প্রতি যেভাবে খারাপ ভাষা ব্যবহার করা হয় তা ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, এটা হলো পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার ফল। একজন নারীও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীকেন্দ্রিক গালি দেওয়া হয়। আর সমাজে এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে। বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে নারীকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও নারীদেরই ত্যাগের মূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ছেলেদের তুলনা করা হয় বাঘ, সিংহের সঙ্গে। আর নারীদের তুলনা করা হয় সাপ ও হরিণের সঙ্গে।

চিত্র নির্মাতা শামীম আক্তার বলেন, আমরা যতদিন না এই বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝবো, প্রতিবাদ করবো ততদিন এর সমাধান আসবে না।

নিউজ২৪ এর বার্তা প্রধান শাহনাজ মুন্নী বলেন, শব্দ আমাদের সামনে ছবি এবং অর্থ তৈরি করে। গণমাধ্যমে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখন হয়তো কিছুটা পরিবর্তন আসছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উল্টো চিত্র আমরা পাই। অনুষ্ঠানে ‘শব্দে জব্দ নারী’ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার কাশফিয়া ফিরোজ। নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে দুটি পারফরমেন্সও দেখান হয়।