‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতা বাড়লেও আছে চ্যালেঞ্জ’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২২:১৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী, বাজেট এবং জিডিপিতে ব্যয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে প্রতীয়মান হলেও উপকারভোগী নির্বাচন, সহায়তার পরিমাণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। পাশাপাশি দরকার দরিদ্র মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন। এক্ষেত্রে পৃথক নীতি না থাকায় সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই প্রান্তিক। এসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চ্যালেঞ্জ উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

গতকাল বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব বলেন। ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহায়তায় এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিক। আজকের সভায় যেসব সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরা হলো তা নিয়ে পরবর্তীতে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরো আলোচনা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ ও ‘পিকেএসএফ’-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে বাজেট রয়েছে তাও ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি-না সেটা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। এজন্য দরকার যথাযথ তদারকি ও সমন্বয়। যে সম্পদ রয়েছে সেটারও সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় আমাদের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বরাদ্দ প্রদানের পর্যাপ্ত তহবিল এখন বাজেটে নেই। বর্তমানে উপকারভোগীদের মধ্যে ১২-২৫ শতাংশ মানুষ এ কর্মসূচির সুফল পায়। এজন্য সংবিধানের আলোকে এ কর্মসূচিকে ‘অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ দিয়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হলে অর্থনীতিতে কালো টাকা হ্রাস করতে হবে, ঋণখেলাপের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। অধিকারের ভিত্তিতে এ কর্মসূচিতে সকল উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ (এসএসপিএস কর্মসূচি) মোহাম্মাদ খালেদ হাসান বলেন, আদিবাসীদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কর্মসূচির সংখ্যা কমিয়ে ৮টিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সকল বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বরাদ্দ ও ভাতার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেন এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখতে পারে সে চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ (এসএসপিএস কর্মসূচি) মোহাম্মাদ খালেদ হাসান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রায়না আহমেদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী এবং আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ।