বিশ্ববাজারে পাটপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা খুঁজে বের করুন -------------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাট পরিবেশবান্ধব, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য আঁশ। পাট খাতের বিকাশে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা হবে। বিশ্ববাজারে পাটপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে হবে। পাটের উত্পাদন বৃদ্ধি এবং পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানির জন্য উদ্দীপক সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করে তিনি পাটশিল্প টেকসই করতে এ খাতকে লাভজনক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পাট দিবস-২০১৯ এবং বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হতাশ না হয়ে দেশে-বিদেশে পাটের নতুন বাজার খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পাট এমন একটি পণ্য যে তার কিছুই ফেলা যায় না। সেটার কেন লোকসান হবে। আমরা লোকসান শুনতে চাই না। এটাকে লাভজনক কীভাবে করা যায়, কীভাবে করতে হবে- সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৯০ ভাগ আসতো পাট খাত থেকে। কিন্তু কিছুটা কৃত্রিম আঁশের আগ্রাসন আবার কিছুটা ’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে পাট খাতে মন্দা নেমে এসেছিল। মাঝে কিছুটা সময় পাটের মন্দ সময় গেলেও এখন নতুন করে পাট শিল্পের সুদিন ফিরে আসছে। সারাবিশ্বের মানুষ ক্ষতির দিক বিবেচনায় নিয়ে কৃত্রিম আঁশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার পাটের মতো প্রাকৃতিক আঁশের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে। সরকারের পাশাপাশি পাটের সুদিন ফেরাতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে প্রণোদনা দেওয়া হবে ব্যবসায়ীদের। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা এই খাতকে লাভজনক করতে পারবো। যারা হতাশাপূর্ণ আমি তাদের মধ্যে নেই, আমি সর্বদা আশাবাদী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য রপ্তানিমুখী পণ্য যে ইনসেনটিভ পাচ্ছে, পাটপণ্যের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উত্পাদনকারী দেশ হিসেবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। এ খাতে গবেষণা বাড়াতে হবে। পাটের রপ্তানি বাড়াতে নতুন-নতুন বাজার ধরতে হবে। তিনি বলেন, দেশে পাট উত্পাদন ও পাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় আমরা ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ ও ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩’ প্রণয়ন করেছি। সরকার ইতিমধ্যে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি ও মসলা জাতীয় পণ্যসহ ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবছর প্রায় ১৫০ কোটি পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যকে বহুমুখী করার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৬৫০ জন বেসরকারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। 

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রীবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর সচিবগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এবারের পাট দিবসের স্লোগান হচ্ছে: ‘সোনালি আঁশের সোনালি দেশ, জাতির পিতার বাংলাদেশ।’