পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে স্পিকার, পুলিশের আইজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রশিক্ষণে সিইসি কঠোরভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনাররা মাঠপর্যায়ে গিয়ে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফেরাতে তত্পর কমিশন। এজন্য যে কোনো মূল্যে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায় ইসি। গতকাল ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় ডিসি-এসপিদের বলা হয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সারাদেশে চার ধাপে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালে সকল প্রার্থী যেন সমান সুযোগ ভোগ করতে পারেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং ভোটদান শেষে তারা নিরাপত্তাহীনতায় না থাকেন; সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নিরপেক্ষভাবে প্রার্থীদের প্রচারণা আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন এবং যথাযথভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে সবাইকে পরামর্শ দেবেন। যারা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করবেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নির্দ্বিধায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কমিশন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কারো অবহেলা প্রত্যাশা করে না। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে নির্বাচন কমিশন আশা করে। তাদের কারণে নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, আইনবহির্ভূত ঘটনা ঘটলে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্বাচনে প্রভাব মুক্ত থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
এর আগে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য গত মঙ্গলবার স্পিকারকে চিঠি দেন প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় সংসদ সদস্যদের মাঠে নামার কোনো সুযোগ নেই। এরই মধ্যে রাজশাহী, নাটোর ও নেত্রকোনার তিনজন সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তার ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি প্রত্যাহার :নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গতকাল নেত্রকোণার পূর্বধলার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আর চন্দনাইশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রত্যাহারের বিষয়ে মতামত চেয়েছে সংস্থাটি। ওসি প্রত্যাহারের নির্দেশনাটি ময়মনসিংহ উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শককে পাঠিয়েছেন ইসির সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে পাঠানো নির্দেশনায় চন্দনাইশের ইউএনওকে প্রত্যাহারের বিষয়ে মতামত দিতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। উল্লেখ্য, আগামী ১০, ১৮, ২৪ ও ৩১ মার্চ চার ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদের ভোট হবে।
