হূদরোগ থেকে বাঁচতে যা যা জানতে হবে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ২২:৫২

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হার্ট অ্যাটাক। বলা হয়, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হূদরোগ। চিকিত্সকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে সাবধান হতে পারলে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। চিকিত্সকদের ভাষ্য, প্রায়শই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হূদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ খেয়াল না করলে কেবল মৃত্যু ঝুঁকিই বাড়ে না, বেঁচে থাকলে তৈরি হতে পারে অনেক ধরনের জটিলতা।

চিকিত্সকরা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক কিছু উপসর্গের কথা বলেছেন যেগুলো সব মানুষেরই জানা উচিত। এই যেমন, বুকে চাপা ব্যথা, বুকের এক পাশে বা পুরো বুক জুড়ে ভারি ব্যথা। শরীরের অন্য অংশে ব্যথা- মনে হতে পারে ব্যথা শরীরে এক অংশ থেকে অন্য অংশে চলে যাচ্ছে, যেমন হতে পারে বুক থেকে হাতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত বাম হাতে ব্যথা হয়; কিন্তু দুই হাতেই ব্যথা হতে পারে। মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা। ঘাম হওয়া। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা। বমি বমি ভাব হওয়া। বুক ধড়ফড় করা বা বিনা কারণে অস্থির লাগা। সর্দি বা কাশি হওয়া। বেশিরভাগ সময় বুকে ব্যথা খুবই তীব্র হয়, ফলে শরীরের অন্য অংশে ব্যথা অনেকে টের পান না। তবে প্রাথমিক এই লক্ষণগুলোর ব্যতিক্রমও রয়েছে। এই যেমন, কেউ হয়তো বুকে ব্যথা অনুভব করেন না, বিশেষ করে নারী, বয়স্ক মানুষ এবং যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে হয়। 

হার্ট অ্যাটাক হলে কী করণীয় সে সম্পর্কে চিকিত্সকদের বক্তব্য, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিত্সা পেতে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মুত্যুর হার ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। এজন্য হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিতে হবে এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিতে হবে। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে ঐ ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।

একই সাথে হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে চিকিত্সকদের কিছু পরামর্শ রয়েছে। এই যেমন, খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করতে হবে, সক্রিয় থাকতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সব সময় চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। ধূমপান বন্ধ করতে হবে। মাঝে মাঝে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। -বিবিসি