ফের কাছাকাছি রাহুল গান্ধী ও লালু প্রসাদ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৮:৩৭
 
ভোট অঙ্কে সম্পর্কের বরফ গলিয়ে ফের কাছাকাছি রাহুল গান্ধী ও লালু প্রসাদ যাদব। শেষ মুহূর্তে কৌশলের বদল না হলে বিহার ভোটে  দুজন যৌথ জনসভাও করবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
 
২০ সেপ্টেম্বর বিহারের চম্পারণ থেকে ভোটের প্রচার শুরু করতে চান রাহুল গান্ধী। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘিরে ‘মিথ’ ভাঙতে চেয়ে চম্পারণের সেই মঞ্চে লালু প্রসাদকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন কংগ্রেস সহসভাপতি। মহাজোটের ওই মঞ্চে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বরাবরই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো লালুর। কিন্তু রাহুলের সঙ্গে যাদব সেনাপতির সম্পর্কে রোদের তুলনায় ছায়াই বেশি দেখা গিয়েছে এত দিন।
 
২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে লালু জোট ভেঙে দেয়ার পর থেকেই যার সূত্রপাত। গত বিধানসভা ভোটে লালুর অনুরোধ উপেক্ষা করে বিহারে একলা চলেন রাহুল। তাতে কংগ্রেসকে খেসারত দিতে হয় ঠিকই, কিন্তু লালুও মুখ থুবড়ে পড়েন। উভয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনে চরমে পৌঁছায় গত লোকসভা ভোটের ঠিক আগে। দাগি সংসদ সদস্যকে বাঁচাতে মনমোহন সরকারের আনা অধ্যাদেশ ছিঁড়ে ফেলার ডাক দেন রাহুল। তার জেরে পশুখাদ্য মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যায় লালুর।
 
বিহার ভোটে সেই লালুর সঙ্গেই জোট হয়েছে কংগ্রেসের। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে রুখতে তার ‘একলা চলো’র তত্ত্বও ছুড়ে ফেলতে হয়েছে রাহুলকে! মহাজোটে সামিল নীতীশও। যে প্রশ্নটা দলকে খোঁচাচ্ছে, তা হল রাহুল-লালু আদৌ যৌথ সভা হবে কি! না হলে কিসের জোট হলো!
 
কংগ্রেস সূত্র জানাচ্ছে, যৌথ সভার ব্যাপারে এখন রাহুল নিজেই আগ্রহী। গত রবিবার লালু-নীতীশের নিমন্ত্রণে পটনার গান্ধী ময়দানে ডাকা স্বাভিমান র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। তার মাধ্যমে জোটের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ব্যাপারে এক দফা বার্তা গিয়েছে। এ বার রাহুল চাইছেন চম্পারণে কংগ্রেসের সভায় উপস্থিত হোন লালু-নীতীশ। এমনিতে বিহারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তি বিশেষ নেই। শুধু উজ্জ্বল ও বর্ণময় ইতিহাসটাই রয়ে গিয়েছে।