কুমিল্লার হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। তবে এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করব।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গত বছরের ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার অন্যায়ভাবে তাকে আটকে রেখেছে। সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই তিনি জেল থেকে বের হতে পারছেন না।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনটি মামলায় জামিন পেলে তিনি কারামুক্তি পাবেন। এর মধ্যে দুটি মামলা হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। এর মধ্যে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত সাত বছর এবং অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দশ বছর কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ হতে জামিন নিতে হবে। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানির মামলা রয়েছে। ওই মামলায় ১৪ মার্চ পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে বলে জানান আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয়। এতে বাসটিতে আগুন ধরে ৮ যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। আহত হয় অনেকে। এ ঘটনায় পরদিন চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
