বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদের সমাধিতে গার্ড অব অনার

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৩৬
 
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে শার্শার কাশিপুর সীমান্তে অবস্থিত তার সমাধিতে গার্ড অব অনার দিয়েছে বিজিবি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ  ও উপজেলা প্রশাসন এছাড়া সেখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
 
গার্ড অব অনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিজিবির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।
 
আলোচনা অংশ নেয় ২৬ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার, কর্নেল জাহাংগীর হোসেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূল মোহম্মদের সন্তান আলহাজ্ব গোলাম মোস্তাফা উপস্থিত ছিলেন। 
 
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক নূর মোহাম্মদ শেখ। তাকে বেনাপোল থেকে ১৫ কি: মি: উওরে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তে সমাহিত করা হয়।
 
নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডীবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নাম নূর মোহম্মদনগর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মায়ের নাম জেন্নাতুন্নেছা (মতান্তরে জেন্নাতা খানম)।
 
১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (সাবেক ইপিআর, বর্তমানে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি) যোগদান করেন। দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই বদলি হন যশোর সেক্টরে। পরবর্তীতে তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।
 
মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করে  যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নড়াইলের এই সাহসী সন্তান। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর নেতৃত্বে ৫ সেপ্টেম্বর পাক বাহিনীর গুলিতে নূর মোহাম্মদের সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরতর আহত হন। আহত সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে শত্রু পক্ষের সাথে যুদ্ধ করেছেন।
 
হঠাৎ পাক বাহিনীর মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙে যায়। তবুও গুলি চালান তিনি। প্রিয় মাতৃভূূমিকে শক্রমুক্ত করার জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যান। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।