ঘিওরে দুই মাসের ব্যবধানে দুই বাউল শিল্পী খুন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৪:৩০
বাউল শিল্পী সাথী সরকার হত্যার পর এবার আরেক বাউল শিল্পী বিউটি সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিউটি সরকারের লাশ মানিকগঞ্জের ঘিওরের উত্তর তরা গ্রামে দাফন করা হয়।  এ দুই শিল্পীর বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওরে। 
 
দুই মাসের ব্যবধানে আলোচিত দুই বাউল শিল্পী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাউল শিল্পী ও এর সংশি­ষ্টরা আতংকে রয়েছেন। গান ছেড়ে না দেয়ায় ও পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন মানিকগঞ্জ ঘিওরের দুই বাউল শিল্পী।
 
বাউল শিল্পী বিউটির পরিবার ও পুলিশ জানায়, গাজীপুর এলাকার একটি পোশাকের দোকানে সেলিম মিয়া কাজ করতেন। দেড় বছর আগে বিউটিকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে গান ছেড়ে দিতে বলে সেলিম। কিন্তু বিউটি স্বামীর কথা না শোনায় সংসারে দেখা দেয় কলহ। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে কৌশলে স্বামী তার স্ত্রী বিউটি সরকারসহ ৫বন্ধুকে নিয়ে গাজীপুরের তিতারকুল বাজার থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা (ট্রলার) করে বেড়াতে বের হন। আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল নির্জন কোনো জায়গায় নিয়ে বিউটিকে হত্যা করা হবে। পথিমধ্যে বিউটিকে নৌকার ভেতর মারধর করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সেলিমের বন্ধুরা। বিউটি অচেতন হয়ে পড়লে পরে সবাই মিলে তাকে পানিতে ফেলে দেয়। বুধবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৌকার মাঝি শাহ আলম বিষয়টি মোবাইলে স্থানীয় পরিচিতদের জানান। পরে স্থানীয় লোকজন নৌকাটিকে ঘেরাও করে। নৌকার ভেতরে থাকা বিউটির স্বামী সেলিম মিয়া (৩০), তার সহযোগী  মামুন সিদ্দিকী (২৮), রুবেল মাহমুদ (২৮), শাকিল ও লিটন মিয়াকে (৩০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। 
 
পরদিন বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একটি বিল থেকে বিউটি সরকারের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত বিউটির বাবা আবদুল মজিদ আটককৃত ৫জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
 
জয়দেবপুর থানার এস আই মো. আহাদুল ইসলাম জানান, বিউটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার লাশ মানিকগঞ্জের ঘিওরে পাঠানো হয়েছে।  
 
অপর দিকে বাউল শিল্পী বিউটি সরকারে মতো সম্প্রতি স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নলকুড়িয়া গ্রামের মো. আরান মিয়ার কন্যা বাউল শিল্পী সাথী সরকার।  গত ২৯ জুলাই মানিকগঞ্জ শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় তাকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে তার স্বামী। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আশিক খানও গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পারিবারিক কলহের কারণেই এ হত্যাকাণ্ডটিও ঘটেছে বলে জানা যায়। আশিকের হাতে লেখা একটি চিরকুট ও ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে লেখা রয়েছে- 'আমি আশিক খান ফারুক সাথীকে নিজ হাতে মেরে ফেললাম। নিজেও অজানার দেশে চলে গেলাম। এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়'।