নাগরিকদের স্মার্টকার্ড দেয়া সংক্রান্ত আইডিয়া প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালন মো. আবদুল বারীকে প্রকল্প থেকে বরখাস্ত করা হলেও এখনো তার ব্যবহূত গাড়িটি হস্তান্তর করেননি তিনি। সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনার ওই কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকল্পের গাড়ি নং-ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-০৭৪৪।
গত ১৮ আগস্ট পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিভাগে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান বেসরকারি টিভি চ্যানেল২৪ এর দুই সাংবাদিক। এরা হলেন—রিপোর্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও ক্যামেরাম্যান রিটু।
আইডিয়া প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক আবদুল বারীর নির্দেশে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের মারধরসহ লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইসিতে সংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি ওই কর্মকর্তার অপসারণ এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে, আবদুল বারী তদন্ত কমিটিতে উপস্থিত হননি এবং কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য চাইলেও তা তিনি দেননি। পরে গত মাসে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং জনপ্রশাসনে তিনি ন্যস্ত রয়েছে। এখনো তাকে কোন দফতর বন্টন করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
প্রায় অর্ধমাস ওএসডি এবং আইডিয়া প্রকল্প থেকে অপসারিত হলেও এখনো তার ব্যবহূত গাড়িটি হস্তান্তর করেননি। শনিবারও রাজধানী মিরপুর ন্যাম গার্ডেনে তার বাসার নিচে প্রকল্পের এই গাড়িটি দেখা গেছে। এ গাড়ির চালক মো. শাহ আলম। ফলে তার অপসারণ এবং এর পরও তিনি কিভাবে প্রকল্পের গাড়িটি ব্যবহার করছেন এ নিয়ে হইচই পড়েছে এনআইডিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন এই গাড়ির পেছনে আইডিয়া প্রকল্পের ২০ লিটার ডিজেল অপচয় হচ্ছে। এর হিসাব কে দেবে। কারণ, অপসারণের পর উপপ্রকল্প পরিচালকের উচিত ছিল গাড়িটি ফেরত দেয়া। অথচ উল্টো তিনি এ গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সচিব এবং এনআইডির ডিজির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে মো. আবদুল বারীর সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
