ভারতের সংশোধনাগারে বন্দী বাংলাদেশের ৫২ শিশু-কিশোর

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৩:৩০
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিন দিনাজপুর জেলার হাসিরপুর বেলতলা বালুরঘাট শোভায়ন সংশোধনাগারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে এদেশের ৫২ শিশু-কিশোর। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় তাদের ঠাঁই হয় এ সংশোধনাগারে। সেখানে ১ বছরের বন্দী জীবন শেষে বাড়ি ফিরে এ কথা জানান হাসনাবাদ ইউনিয়নের ফকিরপাড়ার আবু তালেবের দ্বিতীয় ছেলে কিশোর হোসেন আলী (১৬)। 
 
ভারত ও বাংলাদেশের জাষ্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ ও সহযোগিতায় ২৯ আগস্ট হোসেন আলীসহ নীলফামীর জিতেন অধিকারী (১৫), ঢাকার আকাশ রহমান (১২), কিশোরগঞ্জের মোবারক হোসেন (১৩), ঠাকুরগাঁওয়ের শান্ত হোসেন (১৪) মুক্তি পায়। ওই দিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় ভারতের হিলি অভিবাসন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির মন্ডল বাংলাদেশ হিলি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান রফিকের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে শিশুদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। 
 
হোসেন আলী জানায়, ওই সংশোধনাগারে থাকা ৪৮ জনের মধ্যে ৫ জন সেদিন ছাড়া পায়। আসার সময় দেখতে পায়, একই অপরাধে আটক আরও ৯ জনকে নেয়া হয় সেখানে। 
 
সে জানায়, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর দালালের খপ্পরে পড়ে চাচা একরামুল (১৯), একই ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম (৩৫), কুড়িগ্রামের জহুরুল ইসলাম (২৫), আমির আলী (৪০), রফিকুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী, ৫ বছরের একটি কন্যা শিশু, আরও ২ জন মহিলা এবং ১৩ জনসহ সে দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে। ভারতের দালাল নবাব আলী তাদের একটি বাড়িতে রাখে। পরদিন তার সঙ্গে যাওয়ার পথে বালুরঘাট বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে। প্রাপ্ত বয়স্কদের জেলহাজতে দিয়ে তাকে পাঠনো হয় বালুরঘাট শোভায়ন সংশোধনাগারে।