কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুগ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:০৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সরকার দলীয় মালিথা ও মন্ডল গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের গৌড়দহ গ্রামের উফান আলী  মালিথা ও মসলেম মন্ডলের দুই দলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌড়দহ গ্রামের চরের মাঠের ৩২ বিঘা জমি উভয় পক্ষ নিজেদের বলে দাবী করে। ওই দিন সকালে মসলেম ওরফে মছো মন্ডলের লোকেরা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকেরা তাতে বাধা দেয়। এ ঘটনায় দু’গ্রুপের লোকেরা দেশী তৈরি অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
 
এ সংঘর্ষের ঘটনায় উফান আলী মালিথা গ্রুপের মৃত ফজলু মালিথার ছেলে মকলু মালিথা (৩৮), রজব আলী মালিথা (৩৫), তাজু মালিথা (৩০), মৃত আব্দুল কাদের ওরফে কেদু মালিথার ছেলে আব্বাস মালিথা (৭০), মৃত মহির উদ্দিন ওরফে পুকারী মন্ডলের ছেলে করিম মন্ডল (৪০) এবং মসলেম মন্ডল গ্রুপের মৃত মিনহাজ মন্ডলের ছেলে মসলেম মন্ডল (৬৫) ও তার ছেলে আইনাল হক মন্ডল (৪০), ইসরাইল মন্ডল (৩৪), ইবরা মন্ডল (৩৫), মেয়ে মিলি খাতুন (৩৮), আমদ আলী প্রামানিকের ছেলে গেদন আলী (৫০), হাকিম (৪০), হাশেমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৫০), বানাত আলীর ছেলে রেজাউল (৫০), বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার শান্তাহার গ্রামের আনসার আলীর ছেলে ট্রাক্টর চালক আশিক (২৬) সহ উভয় গ্রæপের অন্তত ২০ জন আহত হয়।
 
পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ আহতদের উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে মালিথা গ্রুপের মকলু মালিথা, আব্বাস মালিথা, রজব আলী মালিথা, করিম মন্ডল এবং মন্ডল গ্রুপের মসলেম মন্ডল, আইনাল মন্ডল, ইসরাইল মন্ডল, ইবরা মন্ডল ও রেজাউলের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
 
সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের লোকেরা ওই ট্রাক্টর ও একটি পরিত্যাক্ত পোল্ট্রি ফার্মে অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময়ে আগুনের লেলিহান শিখায় ট্রাক্টরটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আকতারুজ্জামান প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধে জের ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিলো।