”কিডনী বেচার পর মোর খুব অসুবিদা হয়, মুই ভারি কাজ করবার পারও না, একটু কাজ করলে শরীলে শক্তি পাও না, মাথা ঘুরে পরে যাবার চাঁও” কথাগুলো বলছিলেন তিন বছর আগে কিডনী বিক্রেতা সফির উদ্দিন। কিডনী বিক্রির পর শরীরের নানা সমস্যার কথা এলাকার ভাষায় তুলে ধরেন তিনি। বাড়ি কালাই উপজেলার কিডনী বিক্রির এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ভেরেন্ডী গ্রামে।
জেলার কালাই উপজেলার বৈলাগিরহাট চৌরাস্তা মোড়ে আজ সোমবার কিডনী অবৈধ বেচা-কেনা রোধকল্পে এক সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম ও সিভিল সার্জন ডা: এস এম আব্দুল জলিল বিশেষ অতিথি ছিলেন। কিডনী বিক্রেতা, ক্রেতা ও দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষনা দিলেন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাতেন চন্দ্র হালদার, উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার, সহকারি পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, কালাই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আহসান হাবিব তালুকদার রেজা, কিডনী বিক্রেতা সফির উদ্দিন প্রমূখ।
কিডনী বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যৌথভাবে কিডনী বিক্রেতা, ক্রেতা ও দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষনা দেন। জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটি এই কিডনী বিক্রি রোধকল্পে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে। সভায় আশ-পাশের ২০ গ্রামের শতশত নারী পুরুষ সচেতনতামূলক সভায় যোগদান করেন।
কিডনী কেনা- বেচাদের ধরিয়ে দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। মানবদেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯ সালের ৯ ধারা অনুযায়ী অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্রয় বিক্রয় বিনিময়ে কোন প্রকার সুবিধা গ্রহন এবং এই উদ্যেশ্যে কোনরুপ প্রচারনা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় অপরাধ।
সাম্প্রতিককালে জেলার কালাই উপজেলায় কয়েকটি গ্রামে এক শ্রেণীর দালালদের খপ্পড়ে পড়ে শরীরের জন্য ঝুকিপুর্ন হলেও কিডনী বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সভায় আগত নারী পুরুষরা কিডনী বিক্রি না করার জন্য সভায় মতামত ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য ৬ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাক পত্রিকায় কিডনী বিক্রি নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
