সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ইউরোপে শরণার্থী সংকট বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। এর পাশাপাশি চলমান সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তিনি ‘বাস্তবসম্মত’ হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, সার্বিয়া সীমান্ত থেকে পায়ে হেঁটেই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের দিকে রওনা হয়েছে বহু শরণার্থী। এরই মধ্যে শরণার্থীদের দায়িত্ব বাধ্যতামূলকভাবে ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের তিন দেশ চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া এবং রোমানিয়া।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সোমবার ডোনাল্ড টাস্ক মধ্যপ্রাচ্য থেকে মানুষের সাম্প্রতিক স্থানান্তরকে ‘বহু বছরের জন্য একটি সমস্যা আসন্ন’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘অভিবাসনের সাম্প্রতিক ঢেউটি একবারের কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি সত্যিকারের দলবদ্ধ প্রস্থানের শুরু।’
বাস্তবসম্মত হওয়ার আহবান জানিয়ে টাস্ক বলেন, সংকট মোকাবেলায় ইইউ সদস্য দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের গভীর মতভিন্নতা দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।
এদিকে, সোমবার সার্বিয়া সীমান্তের কাছে পুলিশি বাধা ভেঙ্গে হেঁটেই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের দিকে রওনা হয়েছে বহু শরণার্থী। রোজকে গ্রামে অবস্থিত একটি ক্যাম্পে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত শরণার্থীরা এক পর্যায়ে হেঁটেই রওনা দেয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ঠেকাতে ব্যর্থ হলেও নজরদারি অব্যাহত রাখে। এমনকি হেলিকপ্টার দিয়েও টহল দিতে দেখা যায়।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যারিকেড ভাঙা প্রসঙ্গে হাঙ্গেরির এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন—শরণার্থীকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসাদের কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে তারা হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ার সংযোগ সড়ক ‘এমফাইভ হাইওয়েতে গিয়ে ওঠে। এ সময় তারা ‘জার্মানি, জার্মানি’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।
শরণার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি সরকার। তারা শরণার্থীদের আশ্রয় তো দিচ্ছেই না, নিজ সীমানার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে যেতেও বাধা দিচ্ছে। তবে সম্প্রতি জার্মানি ও অস্ট্রিয়া শরণার্থী নেয়ার ঘোষণায় দেয়ায় কিছুটা নমনীয় হয়েছে তারা। হাঙ্গেরিতে সোমবার শরণার্থী আগমন নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই পদত্যাগ করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাবা হেন্দে। তার পরিবর্তে ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান নিজ দল ফিদেজ পাটির্র অপর এক সদস্য ইস্তভান সিমিস্কোকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
জার্মান রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—সোমবার পর্যন্ত ট্রেনে চেপে ২২ হাজার আশ্রয়প্রার্থী দেশটিতে প্রবেশ করেছে। তবে ট্রেনের টিকিট কেনার সময় আবার হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষ বিদেশিদের ভিসা পরীক্ষা শুরু করায় শরণার্থীদের স্রোতে ভাটা পড়েছে। ইউরোপে চলমান অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় জার্মানি ৩২ হাজার, ফ্রান্স ২৪ হাজার ও যুক্তরাজ্য ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা, পুনর্বাসন ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় সংকুলানে ছয় বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে জার্মান সরকার।
এরই মধ্যে শরণার্থীদের দায়িত্ব বাধ্যতামূলকভাবে ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের তিন দেশ চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া ও রোমানিয়া। গত কয়েক দিনে ইউরোপে আসা বিপুল পরিমাণ অভিবাসনপ্রত্যাশীর চাপ সামলাতে ফ্রান্স ও জার্মানি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে এ সংক্রান্ত একটি কোটা রাখার প্রস্তাব করেছিল।
চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের দেশ এ সমস্যার সমাধানে ঐচ্ছিক সাহায্য দেবে। আর রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক কোটা চালু করে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না।
এ দিকে, গ্রিসের লেসবস দ্বীপে প্রায় ২৫ হাজার শরণার্থীর জন্য অতিরিক্ত কর্মী ও জাহাজ নিয়োগ করছে দেশটির সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। সেখানে আটকেপড়া শরণার্থীদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য একটি পরিত্যক্ত ফুটবল মাঠ ব্যবহার করা হবে।
