জয়পুরহাট সরকারি কলেজে ১৯টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রাণীবিদ্যা বিভাগে ৬ জন শিক্ষকের জায়গায় রয়েছেন মাত্র ২ জন শিক্ষক।
কলেজ সূত্র জানায়, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অধ্যাপক ৩ জন, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক ১ জন এবং প্রভাষক পদে ১৪ জন। বর্তমানে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে ১৩টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
এগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, গণিত, রসায়ন, পদার্থ, উদ্ভিদ বিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা। বিষয় গুলোর মধ্যে রসায়ন ও পদার্থ ছাড়া বাকি সব বিষয়ে এইচ এস সি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত রয়েছে। অন্যান্য বিষয় গুলোতে দু/এক জন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও প্রাণীবিদ্যা বিভাগে ৪শ ৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে এ বিভাগের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে।
বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিউল কাফী অনেকটা অসহায়ত্বের সঙ্গে বলেন, ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে প্রমোশন ও বদলির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আলম, লাকী আকতার ও সাদিকা আকতার শিক্ষক না থাকায় চরম ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানান। এ ছাড়াও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ২ জন রয়েছেন। ফলে এ বিভাগের ৫শ ৭০ জন শিক্ষার্থী কলেজে আসে আর যান।
কলেজ সূত্র আরও জানায়, জয়পুরহাট সরকারি কলেজে শ্রেণি ও বর্ষভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১৫ হাজার ৬১ জন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকে ২ হাজার ৩ শ ৮৯ জন, ডিগ্রি(পাস) কোর্সে ৩ হাজার ৭০৩ জন, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ৮ হাজার ৩০৬ জন ও মাস্টার্স কোর্সে ৬ শ ৬৩ জন। শিক্ষক সংকটের কারণে এই কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে লাজুক অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক সংকট বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে প্রাণীবিদ্যা বিভাগ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে শিক্ষক দরকার বলে জানান ওই কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোফাখ্খারুল ইসলাম।
