গাংনীতে আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার ৬

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:৩৪
পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গাংনীর মোহাম্মদপুরে জেলে পরিবারের মা মেয়েসহ ৬ নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোকতার হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ মহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেন। শুক্রবার সকাল ১১ টার সময় তাদেরকে মেহেরপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
 
আটককৃতরা হচ্ছেন- ওই গ্রামের আব্দুল ওহাবের স্ত্রী রওশনারা (৪৫) ও মেয়ে খুরশীদা (২৮), বদরুজ্জামানের স্ত্রী মুক্তা (২৮), স্বপন আলীর স্ত্রী ঝরনা আক্তার (২৮), ফারুকের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৩০) ও মাহাবুবের স্ত্রী পারুলা খাতুন (২৭)। 
 
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোকতার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামে আবুল মেলেটারী ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ নিয়ে আবুল মেলেটারী জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদসহ ২০ জন মৎস্যজীবীদের বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা ৩টি ও ভাঙচুরের ঘটনায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলার আসামি আনিসকে গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত নারীরা গাংনী থানার এসআই শংকর কুমারকে আহত করে আসামি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় গাংনী থানার এসআই শংকর কুমার বাদি হয়ে এসব নারীদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৮/১৫ তাং- ১০-০৯-১৫ ইং। এ মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
 
গ্রেফতারকৃত নারীরা জানান, সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযান চালানোর কারণে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
জেলা যুবলীগের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ জানান, মাহাম্মদপুরের আবুল মেলেটারী চরগোয়ালগ্রাম মরানদী মৎস্যজীবী সমিতির টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ওই গ্রামের মৎস্যজীবীরা আবুল মেলেটারীর কাছে টাকার হিসাব চান। টাকার হিসাব চাওয়ায় আবুল মেলেটারী ক্ষিপ্ত হয়ে জেলেসহ মৎস্যজীবী সমিতির ৮০ জন সদস্যকে বাদ দেন। মোহাম্মদপুরের আবুল মেলেটারীর সঙ্গে মাছ চাষের টাকার হিসাব নিয়ে সাধারণ মৎস্যজীবীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে আবুল মেলেটারী গ্রামের জেলেসহ মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যদের নামে মেহেরপুর আদালতে ৩টি বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে ও গাংনী থানায় একটি সংঘর্ষ ও ভাংচুরের মামলা দায়ের করে। 
 
এ মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় নারীদেরকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ মৎস্যজীবীরা। নারীদের আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা আক্তার বানু।