বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:১২

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমেই কমেছে। প্রধান প্রধান খাদ্যশস্যের দাম গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একবছরের ব্যবধানে বিভিন্ন শষ্য জাতীয় খাদ্যের দাম কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। এর ফলে ভোক্তাদের কিছুটা সুবিধা হলেও কৃষকদের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। খাদ্যশষ্যের উত্পাদনকারী বিভিন্ন দেশের কৃষকরা দাম কমে যাওয়ায় আন্দোলনে নেমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) তথ্যমতে উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়া, চীনের অর্থনীতির নিম্নগতি এবং জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম নেমে গেছে। এর বাইরে চীন এবং রাশিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর খাদ্যপণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

 
বিশ্ববাজারের সাথে সাথে বাংলাদেশেও কমছে খাদ্যপণ্যের দাম। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী গত এক বছরে চিকন এবং মোট চালের দাম কমেছে কেজিতে ৪ টাকা। আটার দাম কেজিতে এক টাকা করে কমলেও ময়দার দাম একই আছে। সয়াবিন তেলের দাম এক বছরে কমেছে প্রতি লিটারে ১৩ টাকা। পাম অয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ৭ টাকা। মশুর ডালের দাম প্রতি কেজিতে কমেছে ২০ টাকা। চিনির দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা।
 
ফাও-এর হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে এবছর গমের মোট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ৮০ লাখ টন-যা গত বছরের চেয়ে ৫০ লাখ টন বেশি। সংস্থাটির মতে, গত মাসে বিভিন্ন খাদ্যশষ্য, মাংস, ডেইরি পণ্য, ভেজিটেবল অয়েল, চিনি প্রভৃতির দাম কমেছে। এসব পণ্যের দাম আগস্টে তার আগের মাসের চাইতে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ কমেছে।  ২০০৮ সালের পর এটি সর্বনিম্ন মূল্য। তবে, খাদ্যশস্যের দাম ২০১৪ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। শুধু এবছরের আগস্টে তার আগের মাসের তুলনায় দাম কমেছে সাত শতাংশ। গম এবং ভুট্টার উত্পাদন বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে বলে মনে করে ফাও।
 
এদিকে, গত আগস্ট মাসে ভেজিটেবল অয়েলের দাম তার আগের মাসের তুলনায় সাড়ে আট শতাংশের বেশি কমেছে। এটির দাম গত সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফাও এর মতে, চীন এবং ভারত পামঅয়েলের আমদানি কমিয়ে দেয়ায় দাম কমে গেছে। এছাড়া ডেইরি পণ্যের দাম এক বছরে  কমেছে নয় দশমিক এক শতাংশ। আর চিনির দাম কমেছে ১০ শতাংশ। মাংসের দামও বিশ্ববাজারে পড়তির দিকে। একবছরের ব্যবধানে কমেছে ১৯ শতাংশ।
 

ফাও এর তথ্যমতে, এবছর খাদ্যশষ্যের উত্পাদনও বাড়বে। ২০১৫ সালে সারাবিশ্বে মোট খাদ্যশষ্য উত্পাদন হবে ২৫৪ কোটি টন। যা গতবছরের চেয়ে এক কোটি ৩৮ লাখ টন বেশি।