লোহাগড়ায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র খুন

উপবৃত্তির টাকায় গেঞ্জির বদলে এলো কাফনের কাপড়!

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৬:০৬


উপবৃত্তির টাকা দিয়ে গেঞ্জি কেনার স্বপ্ন পূরণ হলো না মেধাবী ছাত্র জুলমাতের। নিয়তির নির্মমতায় ওই টাকা দিয়ে তার জন্য কাফনের কাপড় কেনা হলো। নড়াইলের লোহাগড়ার পৌসভার গোপিনাথপুর গ্রামে মেয়ে ঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জুলমাতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। তবে থানায় এখন পর্ষন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮ টার দিকে গ্রাম্য প্রতিপক্ষরা আপন দুইভাই তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জুলমাত খাঁ (১৪) ও জুঙ্গু খাঁ(১৫) কে গ্রামের মধ্যকার শিমুলের চায়ের দোকানের মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে। এরপর দুজনকে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১ টার দিকে জুলমাত মারা যায়।

গ্রামবাসিরা জানায়, সম্প্রতি গোপিনাথপুর ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা মকবুল হোসেন ও ইকলাছ খার পরিবারের মধ্যে মেয়ে ঘটিত কেলেঙ্কারী ঘটে যা নিয়ে কোন পরিবারই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ ঘটনায় ইকলাছ খার পরিবারের সদস্যদের নামে মকবুল হোসেন পক্ষ অপহরণ মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার গ্রামের মধ্যে পেয়ে প্রতিপক্ষরা ইকলাছ খার ছেলে জুলমাত খা ও জুঙ্গু খাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। জুলমাতের ভাই জুঙ্গুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার তার অস্ত্রপচার করা হয়েছে।

দুই ভাই স্থানীয় ব্যাপারিপাড়া আনন্দ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল। ওই স্কুলের শিক্ষক রাজিয়া হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সহপাঠিদের সঙ্গে জুলমাতের ছয় মাসের উপবৃত্তির টাকা নিতে ব্যাংকে আসার কথা ছিল। সহপাঠিরা আসলেও জুলমাত না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় সবার মধ্যেই ছিল হারানোর বেদনা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জুলমাতের পক্ষে উপবৃত্তির টাকা তার মা-বোনের কাছে দেয়া হয়েছে। এ সময় জুলমাতের মা জয়গন নেছা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আর বলেন, উপবৃত্তির টাকা পেয়ে জুলমাত ও  তার বন্ধু সজিব একই রঙের গেঞ্জি কিনতে চেয়েছিল। টাকা পাইছে আমার ছেলে, কিন্তু গেঞ্জির বদলে কাফনের কাপড় কিনতে হলো। দশভাই বোনের মধ্যে জুলমাতরা সাত ভাই, তিন বোন। জুলমাত ছিল সবার ছোট। পড়াশোনায় অনেক ভালো। ব্যাপারিপাড়া আনন্দ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে এক রোল ছিল জুলমাতের।

শনিবার লোহাগড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিমুল, আল আমিন এবং ওবায়দুর নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ফলোআপ রির্পোট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।