কাতার সিরিয়ায় অস্ত্র বিক্রি করেছে ৩ বিলিয়ন ডলারের। অস্ত্র বিক্রি করে গৃহযুদ্ধে অবদান রাখলেও এখন পর্যন্ত কোনো শরণার্থী গ্রহণ করেনি তারা। একইভাবে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব যথাক্রমে ৪০০ মিলিয়ন, ২১৫ মিলিয়ন এবং ১৩৬ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত শরণার্থী গ্রহণ করেনি।
সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোকে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে জার্মানি প্রশংসা কুড়িয়েছে। অথচ সিরিয়া একটি মুসলিম দেশ হিসেবে সবাই আশা করেছিল মুসলিম অধ্যুষিত আরব দেশগুলোই সিরীয়দের সাদরে গ্রহণ করবে। সেটা হচ্ছে না।
কিন্তু কেন? আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের উত্তরে লেখক ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউটের ফেলো আফজাল আশরাফ বলেছেন, এসব দেশের সম্পদের কোনো অভাব নেই। অভাব নেই স্থানেরও। তারা অনেক অট্টালিকা গড়ে তুলছেন। তাদের চাকরির বাজারও সংকীর্ণ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা কাজের জন্য লোক ভাড়া করছেন।
IMG0
আরব দেশগুলোর জনগণের জীবন-যাপন বিলাসবহুল। কিন্তু তারপরও দেশগুলোর সরকারের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। তা হলো প্রতিবেশী সিরিয়ার শিয়া সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা তাদের দেশে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে বিপদের কারণ হতে পারে।
অনেকে হয়তো সমালোচনা করেন এবং বলেন, সিরিয়া এবং লিবিয়ার বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী তো পশ্চিমা বিশ্ব। তাহলে তারা কেন শরণার্থীদের দায় নেবেন? এই অজুহাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পার পাবেন? কারণ বিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়ায় অনবরত সমালোচনা হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলো কিছু করছে না।
তবে শুক্রবার সৌদি আরব সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা এক লাখ সিরীয় নাগরিককে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের রেসিডেন্ট হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে, শরণার্থী হিসেবে নয়। বেশিরভাগ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ইরাক, লেবানন, তুরস্ক, জর্ডান এবং মিসরে। শরণার্থীর ৯৫ ভাগই আশ্রয় দিয়েছে এই ৫টি দেশ।
