ইউরোপে শরণার্থীদের সমর্থনে লাখো মানুষের মিছিল

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২২:৪৭
 
শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমর্থনে বিশেষ কর্মসূচী ‘ডে অব অ্যাকশন’ উপলক্ষে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে ও অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত মিছিলে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছে। তবে কয়েকটি দেশে শরণার্থী ও অভিবাসী বিরোধী মিছিলও হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
 
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শরণার্থীদের ঢল সামলাতে হিমিশিম খাচ্ছে ইউরোপ। এসব শরণার্থীর অধিকাংশই সিরিয়ার নাগরিক, নিজ দেশে চলমান গৃহযুদ্ধ ও দারিদ্রের মুখে তারা পালিয়ে ইউরোপে চলে আসছেন।
 
শুধু শনিবারেই নয় হাজারেরও বেশি শরণার্থী জার্মানির মিউনিখে যেয়ে হাজির হয়েছেন। রোববার পর্যন্ত ৪০ হাজারের মতো শরণার্থী সেখানে আসবে বলে ধারণা করছে জার্মানি।
IMG0
এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল বলেছেন, তিনি সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছেন।
 
তবে নিজের সিদ্ধান্তে বিষয়ে দৃঢ় আস্থা পোষণ করলেও রাজনৈতিক মিত্রদের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়ছেন তিনি, এদের মধ্যে ব্যাভারিয়া রাজ্যে প্রধানও রয়েছেন। দের স্পিগেল সাময়িকীকে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। জার্মানিতে আসা শরণার্থীদের সব ধরনের সহায়তা দিতে দেশজুড়ে প্রায় চার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
 
লন্ডনে প্রায় লাখো মানুষ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমর্থনে মিছিল করে ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যায়। এদের অনেকের হাতেই ‘সীমান্ত খুলে দাও’ ও ‘শরণার্থীরা আসো’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের মিছিল হয়েছে।
 
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করবে। তবে এদের ইউরোপে হাজির হওয়া শরণার্থীদের থেকে না, সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে।
IMG1
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক হাজারের মতো মানুষ মিছিল করে শরণার্থীদের জন্য আরো বেশি সহায়তা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
 
এখানে দুই সন্তানসহ মিছিলে অংশ নেওয়া জোয়াকিম বলেন, “শুধু সামর্থ্যের কারণে না, সিরিয়ার সংঘাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো সুইডেনেরও কিছু দায় আছে, তাই সুইডেনের অনেক বেশি কিছু করা উচিত।”
 
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে শ্লোগান তোলেন, ‘উচ্চস্বরে এবং পরিষ্কারভাবে বলুন, শরণার্থীদের এখানে স্বাগতম।’
 
জার্মানির হামবুর্গে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে উগ্র-ডানপন্থীদের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। নব্য-নাৎসিদের বহন করা হচ্ছে এমন ধারণা থেকে শহরটিতে একটি ট্রেনে হামলা চালায় বামপন্থী মিছিলকারীরা। এরপর শনিবার হামবুর্গের প্রধান রেলস্টেশন বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিছিল হয়েছে।
 
পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে শরণার্থী ও অভিবাসী বিরোধী মিছিলও হয়েছে। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে প্রায় পাঁচ হাজার লোক ইসলাম-বিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। কাছেই শরণার্থীদের সমর্থনে একটি সমাবেশে প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
 
চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাগে প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারী ‘চেক রিপাবলিকে শরণার্থীদের ও ইসলাম চাই না’ লেখা ব্যানার ও ‘সীমান্ত রক্ষা কর’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেছে। এখানে শরণার্থীদের পক্ষের একটি মিছিলে প্রায় দুইশজন অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
 
স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পনেরশ লোক অভিবাসী বিরোধী মিছিল করেছে।