দুই ছাত্রকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যা, এক লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:১৬

অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হাত-পা বেঁধে বুকে ও গলায় ইট ঝুলিয়ে সাভারের বংশী নদীতে ডুবিয়ে দুই কলেজ ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন: সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মুন্না এবং মানিকগঞ্জের খান বাহাদুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মনির হোসেন। গতাকাল রবিবার বিকালে নদীর হরিণধরা এলাকা থেকে আট ঘণ্টা পানির নিচে তল্লাশি চালিয়ে মনিরের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মুন্নার লাশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি।

 
পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মনিরকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। অন্যদিকে গত ২৫ আগস্ট বিকালে সাভারের নামাবাজার এলাকার সাভার লাইব্রেরির সামনে থেকে মুন্নাকে অপহরণ করা হয়। দুইজনের অপহরণের ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হলে অভিযানে নামে পুলিশ। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে শুক্রবার রাতভর সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই অপহরণকারী  চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
 
গত শনিবার সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে দুই কলেজ ছাত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে অপহরণকারীরা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মানিকগঞ্জের শিবালয়ের বাদশা মিয়া, শুকুর আলী,  সিংগাইরের ধল্লা ভাটের চরের লাল মিয়া, দিনাজপুরের আনোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জের আজগর আলী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের আক্তারুজ্জামান ওরফে কামাল।
 
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম জানান, অপহরণকারীরা কৌশল পাল্টিয়েছে। তারা এখন অপহূতের বক্তব্য রেকর্ড করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে। তবে অপহরণের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
 
পুলিশ জানায়, অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা মনিরের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তার মায়ের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে; কিন্তু দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ‘মা তোমরা আমাকে বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে!’- অপহূতের এ আর্তি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই মনিরকে ধল্লাব্রীজের কাছে বংশী নদীর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। এরপরও অপহরণকারীরা সেই রেকর্ডিং-এর মাধ্যমে নিহতের মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ চেয়ে আসছিলো। এত টাকা যোগাড় করতে না পেরে অবশেষে মনিরের মা মালেকা বেগম গত শুক্রবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেন। মনির হোসেন শিবালয় থানার শিমুলিয়া গ্রামের পরশ আলীর ছেলে।
 
নিহত মুন্নার বড় ভাই মঞ্জু জানান, তার ভাইকে অপহরণের পর গত ২৮ আগস্ট বিকালে বাসার মোবাইলে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এসময় টাকা দিতে দেরি হলে বা পুলিশকে জানালে মুন্নাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা; কিন্তু এত টাকা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এরপরও আমার মা মানুষের কাছে ধার-দেনা করে ওদের বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপরও ওরা আমার ভাইকে ছেড়ে দেয়নি। ভাইকে না পেয়ে একই দিন সাভার মডেল থানায় আমরা একটি সাধারণ ডায়েরি করি। তিনি আরো জানান, তারা সাভারের আড়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। মুন্না পড়ালেখার পাশাপাশি নামাবাজার এলাকায় দোকানে আর্টিস্ট-এর কাজ করতো। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে। বাবার নাম মান্নান আলী।