বাংলাদেশের অনুশীলনের পোশাকটা নীলাভো। দূর থেকে দেখলেই অভ্যস্থ চোখে বোঝা যায়, ওখানে কারা দাড়িয়ে আছেন।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকে একটু ধাক্কা হজম করতে হলো। নীল রংয়ের সেই অনুশীলন জার্সির দেখা নেই। তার বদলে হলুদ প্রধান একটা জার্সি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক ঝাক খেলোয়াড়। মনে হলো, বিপিএল শুরুর আগেই রংচংয়ে পোশাক পরে কোনো দল মাঠে নেমে গেছে বুঝি!
না, বিপিএলের দল নয়। নতুন জার্সিতে অনুশীলন করছিলেন ‘এ’ দলের খেলোয়াড়রা।
সব ঠিক থাকলে আজ সকালেই তিন ওয়ানডে ও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সফরে ভারতীয় ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই ম্যাচগুলো খেলার পাশাপাশি কর্নাটক প্রাদেশিক দলের বিপক্ষে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশীরা। গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচ ও অধিনায়ক বললেন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি মাথায় নিয়ে তারা যাচ্ছেন সত্যি, তবে লক্ষ্য অবশ্যই সব ম্যাচ জিতে ফেরা।
একদিকে প্রস্তুতি ও অন্য দিকে সিরিজ জয়। কোচ হিথ স্ট্রিক বলছেন, দুটো লক্ষ্যই পূরণ করে ফিরতে চান তারা, ‘দুটো দিকই আছে। আমাদের অনেক তরুণ ছেলের জন্য এটি বড় সুযোগ আর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের। পাশাপাশি জয়ের সংস্কৃতিও ধরে রাখতে চাই আমরা। জয়টাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, জয়ের চেষ্টার পাশাপাশি ছেলেরা সেই আত্মবিশ্বাসটাও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বয়ে নিয়ে যাবে। তবে শধু অনুশীলনের জন্য যাচ্ছি না আমরা। কঠিন, লড়াকু ক্রিকেট খেলব। ভারত এ দলকে সহজে ছাড় দেব না।’
অধিনায়ক মুমিনুল হকও বলছেন, প্রস্তুতির পাশাপাশি সিরিজ জয়টাকেই বড় করে দেখছেন তারা, ‘আমরা সবাই চাচ্ছি সবগুলো ম্যাচ জিততে। কোচও চাচ্ছে, আমিও চাচ্ছি, আপনারাও চাচ্ছেন; সবাই চাচ্ছি। এর আগে আমরা জাতীয় দল চারটি সিরিজ জিতেছি। এখনও আমাদের সেই প্রত্যাশা কাছে। আমরা ওখানেও সিরিজ জিতব এবং ভালো ক্রিকেট খেলব।’
সেই জয়ের সামর্থ দলের আছে বলেই বিশ্বাস করেন কোচ, ‘আমরা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল। রোমাঞ্চকর সব ক্রিকেটার আছে দলে। তারুণ ও অভিজ্ঞতার ভালো সমন্বয় আছে। আমি খুবই রোমাঞ্চিত। তবে বেশ বিরতির পর খেলতে নামছে ওরা। মাঠে নামতে মুখিয়ে থাকবে। অনেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে জায়গার জন্য নিজের দাবী তুলে ধরতে চায়। এটা তাই শুধু দল হিসেবে জয়ের চেষ্টাই নয়, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইও।’
আর মুমিনুল একটু কড়া স্বরেই বলে দিলেন, এই সফরে ভারতকে হারিয়ে আসতে না পারাটাকে তিনি ব্যর্থতা হিসেবেই দেখবেন। জয়ের চাপ নিতে না পারলে ক্রিকেটই খেলা উচিত না বলে ঘোষনাও দিয়ে দিলেন, ‘যদি এই (জয়ের) চাপ নেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে ক্রিকেট না খেলাই ভালো। এটা কোনো গলির খেলা না। জাতীয় দলের খেলা, ‘এ’ দলের খেলা। সামান্য চাপ থাকবেই। আমাদের যেই জয়ের অভ্যাস তৈরী হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। আমরা পারবো না কেন? আর ওরাও জানে আমরা (বাংলাদেশ ‘এ’) ভালো দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখানে দশটি টেস্ট খেলোয়াড় আছে। ভালো আমাদের খেলতেই হবে।’
