মেক্সিকোতে প্রতিবছর হাজার হাজার কিশোরী নিখোঁজ হয়। এদের বেশির ভাগকেই আর কখনো হয়ত জীবিত ফেরত পাওয়া যায়নি। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা দেশটিতে আজকের কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেরিতে হলেও দেশটির সরকার এ সমস্যাটিকে আমলে নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে গত জুলাইতে সরকার প্রথমবারের মতো কয়েকটি এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করে। খবর বিবিসির।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে—২০১১ ও ২০১২ সালে দেশটিতে ১ হাজারের ওপর নারী ও কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে শতকরা ৫৩ ভাগেরই বয়স ১৭ বছরের নিচে। তবে কেউই জানে না—এ পর্যন্ত কতজন নারী মারা গেছেন, বেঁছে আছেন অথবা নিখোঁজ রয়েছেন। তবে হিসাবে দেখা গেছে—গত এক দশকে ২২২৮ জন মেক্সিকান নারীকে হত্যা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে—প্রতি বছর দেশটি থেকে ২০ হাজার মানুষ পাচার হচ্ছে। এদের যৌনকর্মে নিয়োজিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—বেশির ভাগ পাচারই অনলাইন কেন্দ্রিক। সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে লোকজনকে টার্গেট করে তাদের অনেকটা ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়।
২০১৩ সালে কারেন নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। তার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তাকে খুজেঁ পাওয়া যায়। নিখোঁজের কারণ তদন্ত করতে গিয়ে তার বাবা-মা কারেনের ফেইসবুকে অনুসন্ধান চালান। সেখানে তার ৪ হাজার বন্ধু রয়েছে। এখানেই এক ব্যক্তির সাথে কারেনের পরিচয় হয়। দেখা যায়, সেই ব্যক্তিই তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
শুধু কারেন নয়, সায়মা পাজ লেমাস নামেরও এক কিশোরী ২০১৪ সালে হারিয়ে যায়। তবে তাকে এখন পর্যন্ত খুুঁজে পাওয়া যায়নি। মেক্সিকোতে এমন অসংখ্য নারী প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে। যাদের কোনো হদিস মিলছে না।
এ দিকে, দেশটিতে নারীদের শোচনীয় অবস্থা স্বীকার করে ‘জেন্ডার সতর্কতা’ জারি করেছে সরকার। ১২৫টি পৌরসভার মধ্যে ১১টিতে এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সরকার জেন্ডার সহিংসতার কারণ অনুসন্ধান এবং নারী ও বালিকাদের রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদে নানা পদক্ষেপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
