সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মাজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল কোসাইবি বলেছেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনার লক্ষ্য নিয়ে তারা বাংলাদেশে এসেছেন। দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে বাংলাদেশ-সৌদি আরব বিজনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আয়োজিত সংলাপে তিনি একথা বলেন। সৌদি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় সফর উপলক্ষে এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। ৫২ সদস্যের প্রতিনিধি দল আসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আলোচনা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং একটি নতুন অধ্যায় সূচনার বিষয়ে আমরা যে আন্তরিক তারই প্রমাণ আমাদের প্রতিনিধি দলের বিশালত্ব। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশকে সত্যিকার এশিয়ার বাঘ বলে অভিহিত করেন বলে জানান তিনি।
প্রতিনিধি দলে সৌদি আরবের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মেজয়েদ আলতাইজরি, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রতিনিধি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ১৭টি ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও সংলাপের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন। সংলাপে সৌদির বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যেসব কাজ করা যায়, সেগুলো খুঁজে বের করতে চাই। বাংলাদেশের অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের উপর আস্থা রাখি। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-সৌদি আরব বাণিজ্যিক লেনদেন বেশ কম। উভয় দেশের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সন্তোষজনক নয়। সৌদি আরবে কর্মরত ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক অংশীদার হিসেবে তাদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এই সফর ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের উষ্ণ, গভীর ও সময়ের পরীক্ষিত সম্পর্কের প্রতিফলন। আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে। দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতায় সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য নিবেদিত প্রাণ জনশক্তি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্প ব্যয় এবং আমাদের বৃহত্ শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ সুবিধাও আছে। বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সস্তা শ্রমবাজারসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুবিধা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তারা বিদ্যুত্, স্বাস্থ্য, উড়োজাহাজকে গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ১৫ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।
