১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, মাছ, সরীসৃপের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি নেমে এসেছে। খাদ্যসহ বিভিন্ন কারণে যেসব প্রাণীর ওপর মানুষ বেশি নির্ভরশীল সেসব ক্ষেত্রে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক টোনা ও ম্যাকেরেল মাছের ৭৪ শতাংশই আজ নেই। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে অন্যতম প্রিয় খাবার সি কিউকাম্বারের ৯৮ শতাংশ এবং লোহিত সাগরে ৯৪ শতাংশ বিলুপ্ত হয়েছে। আর এসবের কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে মানুষের অতিরিক্ত মাত্রায় সামুদ্রিক মত্স্য নিধনকে। বিশেষ করে সময়ের আগে ছোট মাছ ধরা এবং মা-মাছ ধরে এ সবের বংশবিস্তার ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে জলবায়ুর পরিবর্তনকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।
সমুদ্র তলদেশে বিভিন্ন প্রকার ঘাস ও ম্যানগ্রোভ এলাকা যা প্রাণীদের আদর্শ বসবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত, তার পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
ডব্লিউডব্লিউওএফ-এর প্রধান ম্যাক্রো ল্যাম্বার্টনি বলেন, মানুষের অবিবেচক কিছু কর্মকাণ্ডই এর জন্য দায়ী। বিশেষ করে তাদের বেশি মাত্রায় মাছ ধরায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে—কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে সমুদ্রের পানি বেশি পরিমাণে এসিড সমৃদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে দিনে দিনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। বিগত ৪৫ বছরে ১২ শ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর গবেষণা চালিয়ে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
