নির্যাতনে স্ত্রী নিহত, স্বামী আটক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৯:০৬
 
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মূলগাঁও (চরপাড়া) গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের কন্যা জেসমিন বেগম টুনিকে (২৮) স্বামীর নির্যাতনে নিহত হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
 
জানা যায়, টুনির মা বেবী আক্তার বুধবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে এ অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ওই দিনই বিকেলে ঘাতক স্বামী আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) স্থানীয়রা আটক করে টঙ্গী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
 
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সদর এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আনোয়ার হোসেন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মূলগাঁও (চরপাড়া) গ্রামের বিয়ে করেন। সে টঙ্গী এলাকার বাটা কারখানায় ৫ বছর যাবৎ কাজ করছে। ওই সূত্রে টঙ্গী এলাকার ভাড়া বাসয়া থাকত। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হতো। কথায় কথায় স্বামী স্ত্রীকে মারধর করতো। বুধবার সকালে টুনিকে আমানুষিকভাবে মারধর করে আহত করলেও হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তার স্বামী। এ সময় তার অবস্থা খারাপ দেখে আনোয়ার টুনির মাকে ফোন করে তার অসুস্থ্যতার কথা বলে। মা টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথেই মৃত্যু হয় টুনির। পরে তার লাশ বাবার বাড়ি নিয়ে যায় এবং বিষয়টি কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন করেন। নিহতের প্রাথমিক সুরাতহাল রিপোর্টানুযায়ী তার শীরিরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে টঙ্গী এলাকা থেকে স্থানীয়রা ঘাতক স্বামীকে আটক করে টঙ্গী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আনোয়ার হোসেনকে আটকের ব্যাপারে টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান সত্যতা স্বীকার করেছেন।
 
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন করেছি। এতে নিহতের শীরিরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে যেহেতু তারা টঙ্গী এলাকায় থাকত এবং আসামীকে টঙ্গী থানা পুলিশ আটক করেছে তাই মামলা টঙ্গী থানায় হবে।