পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বলেছেন, একটি অর্থনীতিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ চিরকাল ব্যয় করা সম্ভব নয়। তাই এমনভাবে কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এজন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রে শিক্ষা ও পশুপালন সংক্রান্ত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে দৈনিক ইত্তেফাক ও ডরপ্ আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: প্রসঙ্গ- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
দৈনিক ইত্তেফাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডরপ্ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য একেএম শাহ্জাহান কামাল, কাজী রোজী, নূরজাহান বেগম মুক্তা এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এখলাসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, ডরপ্ এর সভাপতি ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আজ্হার আলী তালুকদার, নারীপক্ষ-এর সহ প্রকল্প সমন্বয়কারী সামিয়া আফরীন, গবেষক শাওয়াল খান, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী এবং কালীগঞ্জ থানার মা সংসদ এর স্পিকার আঁখি বেগম। দৈনিক ইত্তেফাক এর ইকোনমিক এডিটর জামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ম্যানেজিং এডিটর আশিস সৈকত। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘অ্যা টোয়োন্টি ইয়ারস ভিশন স্বপ্ন প্রোগ্রাম ফর পভার্টি অ্যালিভিয়েশন ইন বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকার হাওর-বাওড়, চরাঞ্চল, পাহাড়ী এলাকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করতে চায়। এজন্য গরু, ছাগল ও মহিষ পালনে জোর দেয়া হবে। গাছপালা রোপণ করেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকার বেশি কাজ করতে আগ্রহী। টেকসই অর্থনীতির জন্যই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করতে হবে। তাদের উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, বর্তমান সরকার ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর মাঝে জমি বিতরণ করেছে। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমান সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে।
কাজী রোজী বলেন, সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে সততা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার সাথে করতে হবে।
নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, এমডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি করেছিল। কিন্তু তা সঠিকভাবে দেয়নি। বাংলাদেশ সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু পেয়েছে ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
ড. শামসুল আলম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বপ্ন প্রকল্প একটি সুসংগঠিত ও সুপরিকল্পিত প্রকল্প। তবে সরকারের কাছ থেকে সব সময় অর্থ নেয়া কঠিন, তাই এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাকে সংযুক্ত করতে চেষ্টা করা প্রয়োজন।
মূল নিবন্ধ উপস্থাপনকালে এএইচএম নোমান বলেন, গরিবী ও শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনের কাজটি করতে হবে সামগ্রিক, দেশব্যাপী ও রাষ্ট্রীয়ভাবে।
সভাপতির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সম্পদের সঠিক আহরণ ও বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দিতে হবে। শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হলেই মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ প্রসারিত হবে।
মো. এখলাসুর রহমান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ত্রুটি কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি তদারকি ইউনিট করা হচ্ছে। এর মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংযুক্ত থাকবে।
ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে কাজ করতে হবে। সম্পদ সীমিত হলেও প্রাধান্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে কাজ করা দরকার।
মো. আজহার আলী তালুকদার বলেন, সাধারণত সরকার পরিবর্তন হলে আগের সরকারের সব প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরনের প্রবণতা যেন স্বপ্ন বা এ ধরনের ভাল উদ্যোগকে বন্ধ করতে না পারে সে ধরনের আইনি কাঠামো করা প্রয়োজন।
সামিয়া আফরীন বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার পাশাপাশি মায়ের জন্য স্বাস্ব্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের ভাবা উচিত। এখনও দেশে অনেক নারী সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মারা যায়।
শাওয়াল খান বলেন, আমাদের দেশে এখনও ফুটপাতে সন্তান জন্ম নেয়ার ঘটনা দেখা যায়। এতে বুঝা যায়, আমরা আমাদের মাদেরকে তাদের পূর্ণ অধিকার দিতে পারিনি।
