ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সারাদেশে আইসিটি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং আইসিটি নির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তারই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা সারাদেশের ২,০০০ নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে “শেখ রাসেল কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প” বাস্তবায়ন করছি। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এই প্রকল্পের যাত্রা করলাম। তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্পতিবার সকালে তার নিজ দপ্তরে সারা দেশের নির্বাচিত ২,০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ফার্নিচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জতির পিতাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতার ১০ বছর বয়সী কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলকেও সেদিন ঘাতক দল রেহায় দেয়নি। শেখ রাসেলের স্মৃতিকে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকেও কোমল মতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চর্চা আরো বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে এই চুক্তিকে আপনারা প্রযুক্তি নির্ভর একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে আপনাদের সুনাম সমুন্নত রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।
উল্লেখ্য যে, এ প্রকল্পের আওতায় ৬৪ টি জেলায় ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ সারাদেশে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের মাদ্রাসা) কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। সারাদেশের ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৪ টি লটে ভাগ করা হয়। আগামী জুন/২০১৬ এর মধ্যে ২০০০ টি কম্পিউটার ল্যাব এর প্রতি জেলায় ১ টি করে মোট ৬৪ টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ নং লটের আওতায় ঢাকা বিভাগের ১৭ টি জেলায় ৫৪৩ টি, ২ নং লটের আওতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ টি জেলায় ৩৮৭ টি এবং সিলেট বিভাগের ৪ টি জেলায় ১৪৬ টি সহ মোট-৫৩৩ টি, ৩ নং লটের আওতায় খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলায় ২২৮ টি এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় ১৮৩ টি সহ মোট- ৪১১ টি এবং ৪ নং লটের আওতায় রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ২৯৫ টি ও রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলায় ২১৮ টি সহ মোট-৫১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বমোট ২০০০ টি কম্পিউটার ল্যাবে ৩৪,০০০ চেয়ার ও ১৮,০০০ টেবিল সরবরাহ করা হবে। ৪ টি লটের বিপরীতে ফার্নিচার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাভানা ফার্নিচার লি:, আকতার ফার্নিসার্শ, হাতিল কমপ্লেক্স লি: এবং পারটেক্স ফার্নিচার ইনাষ্ট্রিজ লি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে আগামী ৪ মাসের মধ্যে ২০০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফার্নিচার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরক্তি সচিব সুশান্ত কুমার সাহা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরক্তি সচিব মো: হারুনুর রশিদ, “সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো: এমদাদুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক গোলাম রব্বানী প্রমুখ।
