‘আমরা মানবপাচারকারী না, মানবের সহযোগী’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২০:৪৯
 
অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ৪ জন স্বেচ্ছাসেবীকে মানবপাচারকারী আখ্যায়িত করে গ্রেফতার ও রিমান্ডের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তি দাবিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ফাউন্ডেশনটির স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা। এ সময় মানববন্ধনকারীদের হাতে থাকা প্লাকাটর্ডে লেখা ছিল ‘আমরা মানবপাচারকারী না, মানবের সহযোগী’, ‘আমরাই অদম্য, আমরাই বাংলাদেশ’, ‘মানবসেবা মানে কি রিমান্ড?’, ‘সত্যের জয় নিশ্চিত’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘আমরাই সত্য, আমরাই জিতব’ ইত্যাদি।
 
প্রসঙ্গত, শনিবার রামপুরার বনশ্রীতে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ১০ শিশুকে ‘উদ্ধার’ করে পুলিশ। এ সময় চার তরুণ-তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়।
 
পুলিশ বলছে, সেখানে থাকা মোবারক নামের এক শিশুর চাচা মনির হোসেন অভিযোগ করেন—তার ভাতিজাকে আশ্রয়কেন্দ্রে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগে তিনি মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেফতারের পর গত রবিবার দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গুরুপূর্ণ কোনো তথ্য না পেয়ে গত বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
 
অদম্য ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ‘মজার স্কুল কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবক শাকিল আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারী অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছরের ২৯ জানুয়ারি তারা সরকারি নিবন্ধন (নম্বর-১২০৫৫) পান। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আগারগাঁওয়ের কুমিল্লার বস্তিতে তারা চারটি অস্থায়ী স্কুল পরিচালনা করেন। এগুলোতে প্রায় ২০০ পথশিশু পড়ালেখা করে। তাদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। নিজেরা চাঁদা দিয়ে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ ধরণের কাজের ধারাবাহিকতায় আট মাস আগে বনশ্রীতে ছেলে শিশুদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ‘বায়ান্ন’ চালু করা হয়। এ ব্যাপারে থানা থেকে মৌখিক অনুমতিও নেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিশুদের খাদ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের লক্ষ্য। এ সংক্রান্ত কাযক্রমের ছবি বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে আপলোডও করা হয়েছে। অভিভাবকের সন্ধান পাওয়ার পর এ পযন্ত পাঁচ শিশুকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোবারক নামের শিশুটি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে চাইলে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়। তাকে জোর করে আটকে রাখার প্রশ্নই ওঠে না।
 
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের স্বজন ও সহকর্মীরা বলছেন, পথশিশুদের জন্য ভালোবাসা থেকে তারা কাজ করতে নেমেছিলেন। আইনের অনেক মারপ্যাঁচ হয়তো তাদের জানা ছিল না। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না। চাকরি করে, টিউশনি করে আয় করা অর্থের একাংশ দিয়ে এবং শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতখরচের টাকা দিয়ে এই মানবসেবামুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন।
 
বক্তারা আরো বলেন, ‘অদম্য বাংলাদেশ ফা্উন্ডেশনের’ ৪ জন কর্মীকে মানবপাচারকারী অবহিত করে গ্রেফতার এবং রিমান্ড দেয়ার মধ্য দিয়ে ভালো কাজে মানুষের আগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তাই মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এই ৪ জন স্বেচ্ছাসেবীর দ্রুত জামিন মঞ্জুর এবং মামলা থেকে তাদের দ্রুত অব্যাহতির অনুরোধ জানিয়েছে।