রেলের মোট দুর্ঘটনার শতকরা ৬৩ ভাগ লাইনচ্যুতি এবং ১৭ ভাগ লেভেল ক্রসিংজনিত। এ সব দুর্ঘটনা বাস্তবে দুর্ঘটনা নয়। রেল কর্তৃপক্ষের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, গাফিলতি, অবহেলা ও উদাসীনতা, রেল লাইন সার্বক্ষণিক মনিটর ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অসর্তকতার অভাবে এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পবা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ‘রেল দুর্ঘটনা: কারণ ও করণীয়’ শীর্ষক পর্যালোচনাসহ প্রতিবেদন প্রকাশে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, রেলপথের প্রায় সবই অরক্ষিত। প্রতিনিয়ত ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রেন দুর্ঘটনার ধরন প্রধানত লাইনচ্যুতি, লেভেলক্রসিং, ইঞ্জিন বিকল, সিগনাল অমান্য করা। ঘন ঘন ট্রেন লাইনচ্যুতির ফলে একদিকে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, অপরদিকে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া জনবলের অভাব, রেললাইন নিয়মিত মেরামত না করা, ইঞ্জিন ও বগি যথাযথভাবে মেরামত না করা, মেরামত কারখানায় দক্ষ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং রেল কর্মকর্তাদের গাফিলতি ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণ।
এতে বলা হয়, একটি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল যেখানে বিশ বছর এবং বগির আয়ুষ্কাল ত্রিশ বছর সেখানে ৫০ বছরের পুরানো ইঞ্জিনও চলছে। ৬৫ শতাংশ ইঞ্জিন এবং ৪৫ বগির আয়ুষ্কাল অতিক্রান্ত। রেলের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে মোট ২ হাজার ৫৪১টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। ১ হাজার ৪১৩টির অনুমোদন আছে, ১ হাজার ১২৮টির অনুমোদন নেই এবং মাত্র ৩০০টিতে প্রহরী রয়েছে। লেভেলক্রসিংয়ে তিন বছরে ৮৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থেকেছে। ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ এই দুর্ঘটনা।
এতে আরও জানানো হয়, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত বড় দুর্ঘটনার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পবা জানতে পারে, এ সময়ে মোট ১৩৩টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব দুর্ঘটনার ধরন- লাইনচ্যুতি ৮৪টি, রেল-রোড ক্রসিংজনিত ২৩টি, পাটিং বা বিভক্তিজনিত ৬টি, সিগনাল অমান্য ৫টি এবং অন্যান্য ১৫টি। এসব দুর্ঘটনায় ৪৪ জনের প্রাণহানি হয় এবং ১০৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনায় রেলের ক্ষয়ক্ষতি হয় ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ টাকা।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধের আলোকে বক্তব্য তুলে ধরেন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম সফিউল্লাহ, পবার সহ-সম্পাদক মো. সেলিম, মো. নজরুল ইসলাম, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’র প্রকল্প কর্মকর্তা মো আতিকুর রহমান, মো. আকবর প্রমুখ।
