এই দেশে তুমি জন্ম নিয়েছ, আছ তুমি বড় সুখে...
মিটিঙে-ভাষণে মায়ের ভাষার ফুলঝুরি ফোটে মুখে।
এ-দেশ তোমাকে বুকে করে রাখে, খিদেয় যোগায় আহার—
খেয়ে খেয়ে পেটে চর্বি জমেছে শরীরে জেগেছে বাহার।
যুগ যুগ ধরে পরাধীন ছিলে, চলত না জারিজুরি...
স্বাধীন হয়েছ বলেই এখন কর কত বাহাদুরি।
নির্বাচনের হাওয়াতে ভাসছ, খাড়িয়ে গিয়েছ ভোটে—
কেউবা গিয়েছ জামাতি ঐক্যে, কেউ-কেউ মহাজোটে।
ভোটের লড়াইয়ে কোটি-কোটি টাকা ঢালবে; এ কথা জানি...
তোমরা হচ্ছ টাকার কুমির, অন্যরকম প্রাণী।
এমপি হইবে, মন্ত্রী হইবে—এমন ভাবনা মনে...
বুঝে না-বুঝেই ভোট দেবে তবু সাধারণ জনগণে।
কিন্তু বন্ধু তোমাদের কাছে কয়টি প্রশ্ন রাখি—
বুকে হাত দিয়ে বলতে হইবে, দিও না কথার ফাঁকি।
সত্যি-সত্যি তোমরা কি এই দেশটাকে ভালোবাস?
কোথা হতে এত বস্তা-বস্তা টাকাকড়ি নিয়ে আস?
এই স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, লাখো শহীদের স্মৃতি...
এসব সত্য মানো কি তোমরা, নাকি মানো ভুয়া নীতি?
ক্ষমতার স্বাদ পাইলে তুমি কি ভয়াবহ হবে আরো?
পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে কি দেশের বাজাবে বারো?
তুমি কি আবার জঙ্গি আনিবে? খেলিবে অগ্নিখেলা?
‘একুশে আগস্ট’ আনিতে কি ফের ইবলিশ দেবে ঠেলা?
বন্ধু তোমরা নাচিতেছ খুব, মারিতেছ লাফালাফি...
দেখিয়া শুনিয়া জনতার প্রাণ করিতেছে কাঁপাকাঁপি!
কাজ হবে নাকো যত নাচো বাছা, যত কর মাতামাতি...
মানুষ চিনিয়া ভোট দেবে এই মুক্তিযোদ্ধা জাতি।
