ইইউ-এর ভবিষ্যত্ লইয়া শঙ্কা

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ২২:১১

মহাদেশ জুড়িয়া উগ্র জাতীয়তাবাদীদের উত্থানের মুখে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যত্ লইয়া গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নেতা গাই ভারহফস্টাড। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচনে গত চার দশক ধরিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতাধারী মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থিদের মহাজোটটি প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাইবে বলিয়া একাধিক জরিপ হইতে জানা যাইতেছে। পক্ষান্তরে, মহাদেশের নানা দেশে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা বর্ণবাদ ও অভিবাসন-বিরোধিতাকে সম্বল করিয়া রাজনীতি করিতে থাকা দলগুলি এইবার পার্লামেন্টে ভালোভাবেই আসন গাড়িবে বলিয়া আশঙ্কা করা হইতেছে। ভারহফস্টাডের মতে, নির্বাচনে তেমন কিছু ঘটিলে মহাদেশীয় আইনসভাটির চরিত্র ভিতর হইতেই অনেকখানি পাল্টাইয়া যাইবে। বর্তমানে পার্লামেন্টে মধ্য-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি, মধ্যপন্থি উদারনীতিক ও মধ্য-বাম সমাজতন্ত্রী ও গণতন্ত্রী দলগুলি মিলিয়া মোট আসন সংখ্যার ৫৩ শতাংশ অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। এইবারের নির্বাচনে ইহা ৪৫ শতাংশে নামিয়া আসিতে পারে বলিয়া সর্বশেষ একটি জরিপ হইতে জানা যাইতেছে।

বিপদের আশঙ্কা টের পাইয়া ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ইতোমধ্যেই এইবারের নির্বাচনকে এই যাবত্কালের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছে। ব্রিটিশ ব্রেক্সিটসহ ইউরোপের দেশে-দেশে গঠনমূলক রাজনীতির পরিবর্তে নিতান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগসর্বস্ব রাজনীতির প্রতি জনমনে চাহিদা বাড়িয়া যাইবার কারণেই উগ্র-জাতীয়তাবাদী দলগুলি গত কয়েক বত্সর ধরিয়া নির্বাচনে ভালো ফল করিতে শুরু করিয়াছে। এই ধারাবাহিকতাতেই এইবারের ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি, ইতালির লিগ পার্টি ও ব্রিটেনের ইউরোপ ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডিরেক্ট ডেমোক্র্যাসি পার্টির আসন বাড়িয়া যাইবে বলিয়া মনে করা হইতেছে। মাত্রাগত কিছুটা রকমফের থাকিলেও এই দলগুলির প্রত্যেকেই একক ইউরোপের ধারণার বিরোধী। এই অবস্থানকে শক্তিশালী করিবার লক্ষ্যে এই দলগুলি প্রতিনিয়তই প্রত্যক্ষভাবে অভিবাসী-বিরোধিতার নীতিকে সম্বল করিয়া অগ্রসর হইতেছে। ইহার বাহিরে প্রচ্ছন্ন বর্ণবাদ হইতেছে এই দলগুলির অন্যতম অস্ত্র।

উগ্র-জাতীয়তাবাদীদের দিক হইতে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়িয়া ইউরোপের মধ্যপন্থি শক্তিগুলি বেশ কিছুদিন ধরিয়াই অভিবাসনের মতো স্পর্শকাতর প্রসঙ্গটিতে আপসরফা করিয়া আসিতেছে। এইক্ষেত্রে বিশেষ করিয়া জার্মানির অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মতো শরণার্থী-অভিবাসী বান্ধব পরাক্রমশালী রাজনীতিকেরও বেশ অনেকখানি নতি স্বীকারের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। এইবারের নির্বাচনকে সামনে রাখিয়া খোদ ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টও পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করিয়া একক মুদ্রা ইউরোর পরিধি, অভিবাসন নীতি ও মহাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাতে বড়সড় পরিবর্তনের তাগিদ দিয়াছে। বিশ্লেষকদের কেহ-কেহ মনে করিতেছেন যে, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের এহেন ঘোষণা আখেরে উগ্র-জাতীয়তাবাদী দলগুলিকেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাইয়া দিবে। উল্লেখ্য, এই ধারার দলগুলি মুখে অভিবাসন-বিরোধিতা করিলেও, রাজনীতিতে ইস্যুটি টিকাইয়া রাখিবার প্রয়োজনে কখনোই অভিবাসী আগমন পুরোপুরি বন্ধ করিয়া দিবার মতো অবস্থান গ্রহণ করে না।