উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা অনেক। এখানে প্রায় সবকিছুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সে কারণেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে উন্নয়নশীল বিশ্বে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ। যথাযথ সহায়তা দানের মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে যদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা না যায় তাহলে সবকিছুই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে টেলিফোনে ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের মতামত তুলে ধরা হলো।
পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের মন-মানসিকতায় ও আচার-আচরণে, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিভাজন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা, শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কেননা মাথা যেমন সমস্ত শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে একটি দেশকে এবং দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে। রাজনীতিতে সংকট জিইয়ে রেখে কোনো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত বলে আমি মনে করি। এটি সবার মতো আমাকেও আশাহত করে, বিনষ্ট করে উদ্যম ও উদ্দীপনাকে। কাজেই রাজনৈতিক বিভাজন ও হানাহানি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে এখনই; জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সুস্থ, সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাগুলো পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্তিশালী হবে বলে আমি এমনটাই মনে করি।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর
কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি শক্তিশালী না হয় সে দেশের উন্নয়ন ঘটানো মুশকিল। কাজেই দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। সম্ভব নয় প্রশাসন শক্তিশালী প্রশাসন ও উন্নয়ন। সে জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা জরুরি।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
উন্নয়নশীল বিশ্বে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেক। কারণ এগুলো সততা, নিষ্ঠা আর শ্রমকে পুঁজি করে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সততা ও নিষ্ঠার সাথে গড়ে তোলা হয় না বলেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা অনেক। সেগুলো রাতারাতি বদলায় না। এটাই হলো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি সাধারণ চিত্র।
সুগন্ধী আক্তার
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা অনেক। তবে তাদের কেউ কেউ মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে এগিয়ে যেতেও সক্ষম হয়েছে। সততা ও দক্ষতা থাকলেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
মারুফুজ্জামান
বাসাবো, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যেকোনো দেশের জন্য একটি অনন্য বিষয়। আর এ প্রতিষ্ঠান যারা পরিচালনা করেন তাদের হতে হবে দক্ষ ও দায়বদ্ধ। সেটা না হলে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আর প্রতিষ্ঠান না থাকলে সবকিছু ধুলিসাত্ হয়ে যেতে পারে।
মোঃ সিকান্দার আলী সাগর
শান্তিনগর, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে সব কিছুই এলোমেলো, নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে রাষ্ট্রের সেক্টরে সেক্টরে দেখা দেয় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসচ্ছতা। সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকতে হবে।
চয়ন
যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি শক্তিশালী না হয় তা হলে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। সে জন্যই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, উন্নয়নশীল বিশ্বে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হচ্ছে মূল চ্যালেঞ্জ।
এস কে মো. রমিজ উদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা অনেক। যেমন আমাদের দেশ। এতো ছোট একটি দেশের লোকসংখ্যা ১৭ কোটি। এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে সমস্যা আছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, মিরপুর, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। এতে করে রাষ্ট্রের প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজেই আইনের শাসনের কথা শুধু বললেই হবে না, এটাকে যথাযথভাবে কার্যকরও করতে হবে।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে সবকিছুই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
ফেরদৌসী বেগম গীতালী
রিক, ধানমন্ডি, ঢাকা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান খুবই শক্তিশালী তাই তারা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অনেকটা ভঙ্গুরদশা থেকে ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠুক এটাই প্রত্যাশা। ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে দেশ। অতএব, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
হ্যাঁ, যথাযথ সহায়তা দান না করলে সবকিছুই ভঙ্গুর হয়ে যায়। কারণ, রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এটা কাম্য নয়।
মো. আবুল কালাম আজাদ
সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠান যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে সে প্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে চলবে না এবং এক সময় তা হবে ভঙ্গুর। প্রত্যেকেই যার যার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলেই প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে, তা না হলে নয়।
শামসুজ্জামান
ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ
প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু যদি ঠিকভাবে করা যায় তাহলেই প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে। শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক থাকলে সে প্রতিষ্ঠান খুব দ্রুতই ভেঙে পড়বে।
নাসিম আনোয়ার
শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
উন্নয়নশীল বিশ্বে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হলো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
নাজমুল হাসান
ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শক্তিশালী না হয় তবে সে ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিপর্যয় ছাড়া অন্য কিছু আশা করা যায় না।
ডা. জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
উন্নয়নশীল বিশ্বে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়। সে কারণেই যদি যথাযথ উদ্যোগ ও দায়বদ্ধতা না থাকে তাহলে সব কিছু ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে সব কিছুই ভঙ্গুর এ কথা অনস্বীকার্য। উন্নয়নশীল বিশ্বের সমস্যা অনেক। এখানে প্রায় সবকিছুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন, ঢাকা
সমাজে বসবাসরত সকল মানুষের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানের জন্যই আবির্ভাব ঘটে রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের। আজকের উন্নয়নশীল বিশ্বে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা মূল চ্যালেঞ্জ না। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের বাস্তব এবং কার্যকর প্রক্রিয়া সৃষ্টি করা। এর লক্ষ্য জাতীয় জীবনে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা এবং যেসব সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে অপরিহার্য তার সঠিক বাস্তবায়ন করা। সুশাসন একটি রাষ্ট্রের সব নাগরিককে তাদের জীবনকে সঠিকভাবে সঞ্চালিত করতে সহায়তা করে এবং একটি উন্নততর সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সঙ্গে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সুশাসনই শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্ত ভিত রচনা করে এবং সব নাগরিককে তথ্য ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে প্রকৃত অর্থে দায়িত্বশীল নাগরিক হতে সক্ষম করে তোলে। এসবের উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো একটি মুক্ত, স্বাধীন, প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। আর সেসব নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও সেবাদানের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সাবরিনা সুলতানা মিশু
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা পর্যালোচনাপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। এ সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনও করা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে রাষ্ট্র ও জনগণের কোনো ক্ষতি হবে না, সেগুলো বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে, সেটিও বিবেচনায় নিতে পারে সরকার।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
সবকিছুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলে হবে না, যথাযথ সুপারভিশন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে তার প্রকৃত দায়িত্ব স্ব-স্ব স্থানে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। অঙ্গীকার ও কাজের মধ্যে মিল না থাকলে সবকিছুই ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা
আমরা যতই তর্জন গর্জন করি না কেন, সোজা কথা যত দিন সরকারি-আধাসরকারি সেবাদানকারী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত ও কর্তব্যপরায়ণ হবে না, ততদিন প্রকৃত উন্নয়ন হওয়া কঠিন।
মো. সেলিম মিয়া
সুন্দরগঞ্জ পৌরশহর, গাইবান্ধা
উন্নয়নশীল দেশে ক্ষমতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হওয়ার কারণ হলো সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভাব, জবাবদিহিতা এবং অধীনস্থদের ওপর কর্তৃত্বকারীর নিয়ন্ত্রণের অভাব। এ কারণে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা অনেক সময় স্বৈরাচারের রূপ নিতে পারে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে, সব কিছুই ভঙ্গুর এ কথাটি একেবারে সত্য। তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরপপুর, ঝিনাইদহ
উন্নয়নশীল দেশে সমস্যা অনেক, যেহেতু এখানে সবকিছু ব্যক্তিকেন্দ্রিক। আমরা সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চাই।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে সরকার আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। কাজেই সমন্বিত যোগ্য নেতৃত্বই কেবল দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
মো. আমির জোবায়ের খান মজলিস
৩৫/এ, সড়ক-৪ ধানমন্ডি, ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে সবকিছুই ভঙ্গুর এ কথাটি দিনের আলোর মতো সত্য। সর্বক্ষেত্রে যদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা না হয় তাহলে কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সুলতানা জামান,
মানিকনগর, ঢাকা
