আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ হাজার সিরিয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিবে বলে জানিয়েছে কানাডা সরকার। সে জন্য অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া কিছুটা সহজতর ও দ্রুত করা হবে বলে অটোয়া থেকে জানা গেছে।
কানাডার অভিবাসন ও নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয় গত শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, কানাডা দশ হাজার সিরিয় শরণার্থী নেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা নির্দিষ্ট সময়ের পনেরো মাস আগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্য পূরণ করা হবে। এছাড়া ২৩ হাজার ইরাকি শরণার্থী নেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।
অভিবাসনমন্ত্রী ক্রিস আলেকজান্ডার বলেন, শরণার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াকরনের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরো কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, তুরস্কের উপকূলে পড়ে থাকা সিরিয়ার শরণার্থী অবুঝ শিশু আয়লান কুর্দীর মর্মান্তিক মরদেহ শুধু বিশ্বের গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তু্মুল ঝড় তোলে। এ ঘটনায় কানাডার ভূমিকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। কারণ, আয়লানের পরিবার কানাডায় আসার জন্য গত জুনে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এমন কি তাদের নিকটতম আত্মীয় পরিবারের সবাইকে স্পন্সর করার আবেদন করলেও তা নাকচ করে কানাডা ইমিগ্রেশন। ফলে কানাডা এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।
আন্তির্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কুর্দির খালা থাকেন ভ্যাঙ্কুভারে। তিনি আরো জানান, কুর্দিরা সিরিয়ার কোবানে শহরে বাস করতো। সেখানে আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর পর তারা পালিয়ে তুরস্কে চলে যায় এবং সেখান থেকে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছিলো। পরে তারা তুরস্ক থেকে গ্রিসে যাবার চেষ্টা করে। যাত্রাপথে সাগরে নৌকাডুবিতে পাঁচ বছর বয়সী কুর্দিসহ বারো জন মারা যান।
এ ঘটনার পর হারপার সরকারের রাজনৈতিক আদর্শ, মানবতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে লিবারেল পার্টির নেতা জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘হারপার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কানাডিয়ান অভিবাস নীতি ও আদর্শকে উপেক্ষা করেছে’।
এরপর দ্রুত কানাডার কনজারভেটিভ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো।
