ঢাকা এখন ‘আইসিইউ’তে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:৫২

রাজধানী ঢাকা এখন আইসিইউতে থাকা রোগীর মতো সংকটাপন্ন। যানজটকেই নগরীর প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি বলেও মনে করছেন তারা। এছাড়া যানজট সমস্যার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

 
গতকাল রবিবার ‘নগর ঢাকায় যানজট: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব অভিমত দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি? ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। আলোচনায় তথ্য ও ধারণা উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক, অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন ও স্থপতি তানভীর নেওয়াজ।
 
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মেয়র আনিসুল হককে উদ্দেশ করে বলেন, এক ঝুঁড়িতে এত ডিম রাখলে হবে না। আপনি আগে ছোট পরিকল্পনা নিন, বাস্তবায়ন করেন। রাস্তা দখলমুক্ত করেন। সবাই ভালো ভালো কথা বলে। কিন্তু অ্যাকশন নেই।
 
ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরের অবস্থা হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা রোগীর মতো। রোগী মরে যাচ্ছে আর আমরা শুধু গবেষণা করছি।
 
ঢাকাকে বাঁচাতে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সমস্যার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সবাই বলেন, ফুটপাত থেকে হকার তুলে দেন। রাস্তা দখলমুক্ত করেন। কিন্তু এটা এত সহজ নয়। হকাররা টাকা দিয়ে বসেছেন। শক্ত শক্ত হাত এদের পিছনে আছে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকার প্রধান দুটি সমস্যা হচ্ছে যানজট আর জলজট। এসব নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করি। এখন কিছু কাজ দেখতে চাই। আমাকে আলাদিনের প্রদীপ দেয়া হলে এসব সমস্যার সমাধান চাইতাম। যানজট নিরসনের দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগের। তবু জনগণ যেহেতু আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আমাদের কাছ থেকে তারা অনেক কিছু আশা করেন। সেক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা ভাঙা, উন্নয়ন কাজে রাস্তা বন্ধ থাকা ও বিপরীত থেকে আসা গাড়ির কারণে যানজট কমছে না। তিনি সভায় দীর্ঘমেয়াদী ১৩টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
 
শামিম জেড বসুনিয়া বলেন, মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণের পর ঢাকা শহর অচল হয়ে পড়বে। সব গাড়ি গিয়ে সাতরাস্তায় জমা হবে। সেগুলো যাওয়ার জায়গা পাবে না। আর এটা যে হবে তার প্রমাণ বনানী ও মহাখালী ওভারপাস। তিনি বিদ্যমান রেলপথের নিচ দিয়ে ওপর দিয়ে মেট্রো রেল করার প্রস্তাব দেন।
 

মেজর অবঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, ৩৪টি স্থানে ইউপাস করা হলে রাজধানীর যানজট থাকবে না। চারটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালে মোট যানবাহনের মধ্যে ঢাকায় চলাচলকারী মানুষের মাত্র ছয় শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ এই গাড়িগুলো সড়কের ৮০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকে। উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইনস্টিটিউট ছিল সহযোগী আয়োজক।