সমাজতান্ত্রিক কিউবার প্রতিষ্ঠাতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। ৮৯ বছর বয়সী সাবেক এই কিউবান প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে দেখা করার আগে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপদ্ধতির সূক্ষ সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন পোপ।
রোববার ৮৯ বছর বয়সী কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে পোপ ফ্রান্সিস তার বাসায় যেয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুনেতা ধর্ম ও বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন। বৈঠকে ক্যাস্ত্রোর স্ত্রী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি ‘খুব সহজ, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বসুলভ’ পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ফাদার ফেদেরিকো লোম্বার্ডি। পোপ ক্যাস্ত্রোকে তার কয়েকটি দাপ্তরিক ধর্মীয় লেখা, দুটি ধর্মীয় বই ও অন্য একটি বই এবং ফাদার আর্মান্দো লোরেন্তের লেখা নিয়ে তৈরি করা একটি সিডি উপহার দেন। ৭০ বছর আগে জেসুইট প্রিপ্রারেটরি স্কুলে পড়াকালে এই ফাদার লোরেন্তো ক্যাস্ত্রোর শিক্ষক ছিলেন।
নীল ও সাদা ট্র্যাকস্যুট পরা ক্যাস্ত্রো পোপকে ‘ফিদেল ও ধর্ম’ নামের তার সাক্ষাৎকারের একটি বই উপহার দেন। ১৯৮৫ সালের এই বইটিতে প্রকাশিত ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাক্ষাৎকারগুলো নিয়েছিলেন ব্রাজিলের একজন পাদ্রি। ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ ফ্রান্সিস কিউবার প্যালেস অব দি রেভল্যুশনে গিয়ে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ছোট ভাই ৮৪ বছর বয়সী কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এখানে দুজন প্রায় এক ঘন্টা একান্তে কথা বলেন। বড় ভাই ফিদেলের মতোই নাস্তিক রাউল প্রমাণ মাপের ক্রুশবিদ্ধ যিশুর একটি ভাস্কর্য উপহার দিয়ে পোপকে অবাক করে দেন, ভাস্কর্যে যিশুর পেছনে মাছধরার জাল ও বৈঠা আছে।
IMG0
এর আগে কিউবার বিখ্যাত হাভানা স্কোয়ারে বক্তব্য রাখার সময়ে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি সূক্ষ ভাবে বর্জন করার পরামর্শ দিয়ে বক্তব্যে বলেন, যারা মহৎ হতে চায় তাদের অবশ্যই অন্যদের জন্য কাজ করতে হবে। তবে অবশ্যই সেটা কারো হুকুমে নয়। সেবা কখনো আদর্শিক হতে পারে না। আমরা আদর্শের সেবা করি না, বরং মানুষের সেবা করি।
IMG1
প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার কিউবার গিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। মঙ্গলবার কিউবা থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন যাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপশি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ও জাতিসংঘে পোপের ভাষণ দেওয়া কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে পোপ ফ্রান্সিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মনে করা হয়। বিবিসি ও এপি
