বহুদিন পর বাংলাদেশ এতো অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল। হ্যামিলটন টেস্টে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ছিলেন একেবারে তরুণ তিন বোলার— এবাদমত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহি। তিন বোলার কোনো ছাপও রাখতে পারেননি খেলায়। তারপরও এই তিনজনের ওপর ভরসা রাখতে চান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
যদিও আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়েলিংটন টেস্টে এই তিন জনের এক জনের বদলী হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের দলে ফেরার কথা। তারপরও তরুণ পেসারদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে রিয়াদ বলছিলেন, ‘আমি পেস বোলারদের একটি কথা বলেছিলাম। তারা বেশ অনভিজ্ঞ এবং তাদের বোলিং আক্রমণও নতুন। সুতরাং এটি বেশ কঠিন হবে তাদের জন্য যদি আমি অনেক বেশি কিছু প্রত্যাশা করি। অবশ্যই ওরা ভালো বোলার, তবে ওদেরকে আরো সময় দিতে হবে। তাদেরকে আরো প্রস্তুত করতে পারলে তারা বাংলাদেশের জন্য আরো ভালো কিছু এনে দিতে পারবে এবং অনেক ভালো পারফর্ম করবে।’
রিয়াদের কাছে প্রশংসনীয় ব্যাপার ছিল এই তিন বোলারের আক্রমণাত্মক মানসিকতা। তিনজনই মাঠে খুব আক্রমণাত্মক থাকায় অধিনায়ক হিসেবে এদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন বলেই বললেন রিয়াদ। শেষে এটাও বলে দিলেন, এদের মধ্যে একজনের বদলী হিসেবেই আজ মুস্তাফিজের ফেরার কথা, ‘তাদের মধ্যে সেই অ্যাগ্রেশনটি আছে যেটি আমার কাছে বেশ সন্তোষজনক মনে হয়েছিল। তবে আমি স্বীকার করি যে ওরা বেশ আক্রমণাত্মক ছিল। আমি নিজে যেটি ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলাম ওদের কাছ থেকে যে অনেক বেশি ওভার বোলিং করা সেটি তারা চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন বল করার চেষ্টা করেছে তারা যেমন শর্ট বল, বাইরে, লেন্থে। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তারা। তবে একটি ধারাবাহিক হলে ভালো হবে। আর মুস্তাফিজ ইনশাল্লাহ অবশ্যই হয়তো ফিরবে। তবে সেটি কার জায়গায় সেটি সিদ্ধান্ত নিবো টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলে।’
নিউজিল্যান্ডে চলমান এই সফরে অনেক কিছুর মতো বাংলাদেশের একটা বড় প্রতিবন্ধকতা ভ্রমণের সূচী। কখনো কখনো বাংলাদেশ দলকে বিমান রেখে বাসেও ঘুরতে হচ্ছে। এটাকে অবশ্য অভিযোগ করার কোনো কারণ মনে করছেন না টেস্টের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াদ, ‘একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমার মনে হয় ভ্রমণ করতেই হবে। সেটি নিয়ে যদি আমরা বেশি মাথা ঘামাই তাহলে মনে হয় না ঠিক হবে। কারণ আমরা একেকটা জায়গায় একেকটি ম্যাচ খেলছি। সুতরাং ভ্রমণ করতেই হবে। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার, সেগুলোর সাথে মানিয়ে নিতেই হবে। আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সবই দেখভাল করছে বিসিবি।’
ভ্রমণ, বাতাস; এসব প্রতিকূলতা পার করে মাঠে নেমে মুখোমুখি হতে হবে সবুজ উইকেটের। তবে রিয়াদ মনে করছেন হ্যামিলটনের চেয়ে এখানকার উইকেট বেশি ব্যাটিং সহায়ক হবে, ‘উইকেটটি যদি আমরা বিবেচনা করি তাহলে দেখবেন যে গতবারও (প্রথম টেস্টে) কিন্তু শুরুর দিকে এমন সবুজ উইকেট ছিল। তবে প্রথম দিন ব্যাটসম্যানদের জন্য কিছুটা সমস্যা হবে। অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকবে, সিম থাকবে, স্পিন থাকবে। তবে আমার কাছে মনে হয় দিন যত গড়াবে এটি আরো ভালো উইকেট হবে এবং ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হয়ে যাবে। সুতরাং প্রথম দিন এবং প্রথম সেশনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
