সৌদি আরবের সঙ্গে দুই চুক্তি, চার এমওইউ সই

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ২২:৫১

বিদ্যুত্ ও জনশক্তিসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এসব চুক্তি ও এমওইউ’র আওতায় দেশে বড় ধরনের সৌদি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এসব চুক্তি ও এমওইউ সই হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাজিদ আল-তাওজরি। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মাজিদ জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে সৌদি আরবের ৫২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি প্রতিনিধিদলের এই সফরে বিভিন্ন খাতে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাক্ষরিত চুক্তি ও এমওইউ :১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুত্ কেন্দ্র (সোলার আইপিপি) নির্মাণে সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানি এবং ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। ইজিসিবির পক্ষে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার সাহা এবং আলফানার কোম্পানির পক্ষে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট খালিদ বিন কাবেল আল সুলামি এ চুক্তিতে সই করেন।

ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উত্পাদনে সৌদি কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। জেনারেল ইলেকট্রিকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আহমেদ ভূইয়া এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন নাজিব আল হাজী চুক্তিতে সই করেন।

অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সৌদি আরবের আল মাম ট্রেডিং এস্টেটের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে একটি এমওইউ সই হয়েছে। বিএমইটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এসকে রফিকুল ইসলাম এবং আল মামের চেয়ারম্যান ইউসুফ আবদুল্লাহ আল মুশির এতে সই করেন।

ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্ল্যান্ট নির্মাণে সৌদি আরবের ইউসুফ আল রাজি কনস্ট্রাকশন এস্টেটের সঙ্গে এমওইউ সই করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানির ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল রাজি এই সমঝোতায় সই করেন।

সৌদি-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সৌদি আরবের আল আফালিক গ্রুপ (এএইচ গ্রুপ) এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মধ্যে একটি এমওইউ সই হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং এ এইচ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এস আলফালেক এতে সই করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) এবং রিয়াদ ক্যাবলস গ্রুপ অব কোম্পানির মধ্যে বৈদ্যুতিক তার উত্পাদনের বিষয়ে একটি এমওইউ সই হয়েছে। শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এবং রিয়াদ ক্যাবলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুস্তাফা মোহাম্মদ রাফিয়া এতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের দুই মন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, তারা সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কাসাভি বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনার নিজের ও আপনার টিমের জন্য গর্ব করা উচিত। মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশকে এশিয়ার টাইগার হিসেবে বর্ণনা করে মজিদ বলেন, সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে আসার আগে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও উল্লেখ করে মজিদ বলেন, সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করতে চাই। জায়গা কম হলেও আমাদের জনসংখ্যা অনেক। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিনিয়োগকারীদের জমি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিরাট অভ্যন্তরীণ বাজারের কথাও তিনি তুলে ধরেন। লালমনিরহাটে এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আইন পাস হয়েছে।

অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।