যন্ত্রের শহর ঢাকায় একটুকরো স্বস্তির নাম হাতিরঝিল। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে বেরিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ বলতেই শহরবাসীর কাছে এখন মনোরম পরিবেশের হাতিরঝিলই ভরসা। এবার সে পরিবেশকে আরো উপভোগ্য করলো শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক উত্সব। আলোর রোশনাই উজ্জ্বল করে তুলেছিল রাজধানীর হাতিরঝিলকে। শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে তিন দিনের এ উত্সব শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে। হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে তিন দিনের এ সাংস্কৃতিক উত্সবে থাকবে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সংগীত, নৃত্য, যন্ত্রসংগীত, মঞ্চনাটক, যাত্রাপালা, পালাগান, পাপেট শো, ব্যান্ড সংগীত ও দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনা।
গতকাল প্রথম দিনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।
অতিথিরা বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন সময় একমঞ্চে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেও আমাদের ঢাকাবাসীদের তা উপভোগ করতে হয় বিভিন্ন মঞ্চে। তবে সেগুলোর মধ্যে হাতিরঝিলের এই এম্ফিথিয়েটারের আয়োজন বেশ মনোরম।
লিয়াকত আলী লাকী জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে হাতিরঝিলের বিপরীত পাশেই একটি অপেরা হাউস নির্মাণ করা হবে।
উদ্বোধনী আয়োজন শেষ হতেই মঞ্চের লাল নীল আলোয় রাঙা হয়ে ওঠে লেকের পানি। সেই সাথে খোলা আকাশের নিচে হাতিরঝিলের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে যন্ত্রসঙ্গীতের সুর। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু শিল্পী সেঁজুতি। ‘দুঃখিনি বাংলা এবং ‘বসন্ত বাতাসে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য শিল্পীরা এবং অনিক বোস। অ্যাক্রোবেটিক শো পরিবেশন করেন শিল্পকলার অ্যাক্রোবেটিক দল। নৃত্য পরিবেশন করে ওয়ার্দা রিহাব ও ওয়াসেক দল। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন রোকসানা রূপসা, সমীর বাউল, ঐশি, তানভীর আলম সজীব, দিনাত জাহান মুন্নী ও ঝিলিক। লোকনাট্যদল পরিবেশন করে তাদের নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’। আর এই সব মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা নিয়ে আয়োজন চলে গভীর রাত পর্যন্ত। আগামী দুইদিনও এই আয়োজন চলবে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
