জয় বাংলা কনসার্টে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৪

 ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উচ্চারিত হচ্ছিল মঞ্চে, স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার তরুণ। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কনসার্ট মুখরিত হয়ে উঠেছিল তরুণদের উচ্ছ্বাসে। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই শ্লোগান যেমন সারা দেশের মানুষকে এক সূত্রে গেঁথেছিল, তেমনি প্রতিটি সংকট এবং জাতির অর্জনেও যেন এই শ্লোগান পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করে। এই প্রত্যয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে ‘জয় বাংলা’ কনসার্টের আয়োজন করে ইয়াং বাংলার সেক্রেটারিয়েট সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার ছিল ইত্তেফাক।

এ সময় কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, তার ছেলে ও সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধুর সেই উত্তাল ভাষণ, যা সারাবাংলার মুক্তিকামী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল ২৪ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলা থেকে বের হবার প্রয়াসে। সেই বিশেষ দিনে দেশের তরুণদের ৭ই মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত করতে গতকাল এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। শিল্পীরা কনসার্টে নিজেদের গানের পাশাপাশি গেয়ে শোনান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অমর গানগুলো যা তারা উত্সর্গ করেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনবাজি রেখেছিলেন।

দেশের প্রতিটি দুর্দিনে ৭ই মার্চের চেতনায় গর্জে ওঠার আহ্বান নিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে হাজির হয়েছিল দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলো। কনসার্টে অংশ নেয় দেশের ৯টি ব্যান্ডদল। এর মধ্যে ছিল ব্যান্ডদল— বে অফ বেঙ্গল, নেমেসিস, আর্বোভাইরাস, লালন, ক্রিপটিক ফেট, শূন্য, আর্টসেল ও চিরকুট।

প্রতিটি ব্যান্ডদলই স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত অনুপ্রেরণামূলক গানগুলো গেয়ে শোনায় দর্শকদের। আর বড় পর্দায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এই আয়োজনটি দর্শকদের মাঝে প্রচণ্ড আলোড়ন তোলে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রতিটি তরুণের মন ছুঁয়ে যায়। তারা উপলব্ধি করেন কতটা কঠিন ছিল সেই আন্দোলনের দিনগুলো। এছাড়া লাল-নীল আলোকরশ্মির লেজার শোতে ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই পুরো আর্মি স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। গানের সুরে নেচে গেয়ে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। কনসার্টটি উপভোগ করার জন্য প্রায় ৩০ হাজার সঙ্গীতানুরাগী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করেন।

বে অব বেঙ্গল ব্যান্ড কনসার্টে প্রথম ড্রাম বাজানোর সাথে সাথে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক গানের উন্মাদনায় মেতে ওঠেন। এরপর শূন্য ব্যান্ড স্টেজে এসে মাতায় স্বাধীন বাংলা বেতারের গান ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ নিয়ে। তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে হাজার কণ্ঠ গেয়ে ওঠে ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। এরপর শূন্য ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘তোমার হাসি শ্রবণ হলে’ ও ‘শোন মহাজন’ গান শুরু হলে তা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা।

 এরপর স্টেজে আসে লালন। ‘মালকা বানুর দেশেতে আগুন লাগে মনেতে’ গান দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে তারা। এরপর লালনের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ গানে মেতে ওঠে আর্মি স্টেডিয়াম। পরবর্তী সময়ে তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে হাজারো দর্শক গেয়ে ওঠে ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই ..... মুক্তি চাই’। ‘মাগো এখনই সময়’ দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শেষ করে তারা। এরপর মঞ্চ মাতাতে আসে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্বোভাইরাস। দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ গেয়ে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে রাখে ব্যান্ডটি। এরপর তাদের গান ‘হারিয়ে যাও তুমি’ গাওয়ার সময় সারা স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে থাকা দর্শকেরা মোবাইলের আলো জ্বেলে স্বাগত জানান ব্যান্ড দলটিকে। শেষে ব্যান্ড দলটির ড্রামের তালে তালে হাজারো কণ্ঠ গেয়ে ওঠে ‘আয় আয় বন্ধুরা ফিরে আয় ...’।

সন্ধ্যায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। তারপর পারফর্ম করে ক্রিপটিক ফেট। তাদের ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পারি দেব রে’ গান সম্মেলিত কণ্ঠে স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে দেয়। রাতে পারফর্ম করে নেমেসিস ও আর্টসেল। সবার শেষে স্টেজ মাতায় চিরকুট ব্যান্ড দল।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ইয়াং বাংলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কণ্ঠস্বর। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে— বাংলাদেশের সর্বস্তরের যুবকদের সমন্বিত করে তাদের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা।