ঈদের আগের দিন ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানুষেরা দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তিতে পড়েছে। গাড়ির চাপ, বিরূপ আবহাওয়া, দুর্ঘটনা আর কোরবানির পশুবাহী ট্রাক বিকল হয়ে ৭০ কিলোমিটার যানজটে ঢাকা থেকে উত্তর জনপদের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক একরকম স্থবির হয়ে আছে। একই
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলের গোড়াই পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়কে গাড়ি যেন চলছেই না। কালিয়াকৈর নবীনগর মহাসড়কে চন্দ্রা থেকে নবীনগর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের চিত্রও মোটামুটি একই রকম। শুক্রবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কয়েক লাখ লোক বুধবার অফিস ছুটির পর থেকে ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে রাতে দফায় দফায় বৃষ্টির মধ্যে বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জট তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশ সুত্র জানান, গত বুধবার ভোর রাত থেকে যানবাহনের চাপ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় এ মহাসড়কে যানজট তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারন করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলার ১২০ টি রোডের যানবাহন এখন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। গত দুই দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা পিচ্ছিল থাকার কারনে যানবাহন ঠিকমত চলাচল করতে পারছে না।মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় উত্তরাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস ও গরু ভর্তি ট্রাক বিকল্প রাস্তা ঘাটাইল, কালিহাতী হয়ে সখিপুর-গোড়াই রাস্তা দিয়ে এবং বাসাইল হয়ে নলুয়া দিয়ে রাজধানী ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্ত গোড়াই ও চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রকট আকার ধারন করায় ঐ যানবাহনগুলো রাজধানীতে ঢুকতে পারছে না। ফলে যানজট আরও তীব্র আকার ধারন করছে বলে পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিক সুত্র জানিয়েছে । যানজট নিরসনের পুলিশ বৃষ্টিতে ভিজেও নিরলস ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাইন উদ্দিন মাইন জানিয়েছেন।
এদিকে ঈদে ঘরমুখো যানবাহনের চাপে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়কেটি পয়েন্টে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এতে এক সময় মেঘনা সেতুর উভয় প্রান্তসহ মহাসড়কের কয়কেটি পয়েন্টে যানজটের সৃষ্টি হয়ছে। যানবাহন খুব ধীর গতিতে থেমে থেমে চলাচল করছে। ভবের চর হাইওয়ে র্সাজন্টে মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কারণে এই যানযট, এটা খুব স্বাভাবিক। আমরা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি।
